অপহরণ মামলার সাক্ষী দেয়া হলো না সুলতান আহমেদের। সন্ত্রাসীদের দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় অপহৃত হয়েছিলেন তিনি। সেই মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার আগেই গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মারা
যান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ ঠিকাদার।
রাজধানীর মতিঝিলের আরামবাগের কমিশনার গলিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুলতান আহমেদ (৪২) বাসাবোর কদমতলা, সবুজবাগের ইব্রাহিম মিয়ার পুত্র। তাদের গ্রামের বাড়ি ঢাকার ধামরাইয়ের কৃষ্ণনগরে।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, আরামবাগের মকবুল প্লাজায় সুলতান আহমেদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএসআই প্রাইভেট লিমিটেডের সামনে তাকে গুলি করা হয়। গাড়ি থেকে নামার পরপরই তাকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি করে দুর্বৃত্তরা। একটি মোটরসাইকেলে দুই দুর্বৃত্তকে দেখা গেছে বলে জানান সুলতানের ঘনিষ্ঠজন ফরিদ আহমদ ও গাড়িচালক আমির হোসেন। চালক আমির তখন গাড়ি পার্কিং করছিলেন। পরে সুলতানকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনটি গুলি সুলতানের বুকে, পাঁজরে ও পিঠে বিদ্ধ হয়। ঘটনার খবর পেয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আশরাফুজ্জামান, সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইফুর রহমান, মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরমান আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কি কারণে, কে বা কারা ঠিকাদার সুলতান আহমেদকে হত্যা করেছে এ সম্পর্কে নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, আগে সুলতানকে একবার অপহরণ করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলার জের ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
২০১১ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অপহৃত হন সুলতান আহমেদ। এ সময় ৭-৮ দুর্বৃত্ত অস্ত্র দেখিয়ে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। গাড়িতে তোলার পর তার হাত-পা ও চোখ বাঁধা হয়। পরদিন ২১শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা তাকে খামারবাড়ি এলাকায় ফেলে যায়। তার আগে অপহরণকারীরা সুলতানকে বেধড়ক মারধর করে তার কাছ থেকে ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর আদায় করে। এ ঘটনায় আফজাল হোসেনকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করে ২৪শে সেপ্টেম্বর মতিঝিল থানায় মামলা করেন সুলতান। ওই মামলার আসামি আফজাল হোসেন পাবনা জেলার বেরা থানার গোবিন্দা গ্রামের বাসিন্দা। তার নেতৃত্বেই অপহরণ করা হয়েছিল বলে সুলতান মামলায় অভিযোগ করেন।
সূত্র মতে, ২০১১ সালে আফজালের এলাকা পাবনার বেরায় ১০ কোটি টাকার খাল খননের কাজ করেছিলেন ঠিকাদার সুলতান। আফজাল তখন ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এমনকি সুলতানের ঢাকার অফিসে এসেও আফজাল এই চাঁদা দাবি করে বলে জানান সুলতানের ঘনিষ্ঠজন ফরিদ আহমেদ। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরপরই তাকে অপহরণ করা হয়। কিন্তু মামলা দায়েরের দুই মাস পর তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে পুলিশ আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে। পরে সুলতানের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত হয়। ওই মামলায় চার্জ গঠন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল শেষ পর্যায়ে। আগামী ২৬শে জুন এই মামলায় আদালতে সাক্ষী দেয়ার কথা ছিল সুলতানের। তার আগেই তাকে হত্যা করায় সন্দেহের তীর অপহরণ মামলার আসামি আফজাল হোসেনের দিকে। এ ছাড়া ঠিকাদারি দ্বন্দ্বের জের ধরে অন্য কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি-না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইফুর রহমান বলেন, ঠিকাদারি দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এ ছাড়াও সুলতানের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিলিং মিশনে যে দুই যুবক অংশ নিয়েছিল তাদের গ্রেপ্তার করতে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিলিং মিশনে অংশ নেয়া দুই যুবকের মধ্যে স্বাস্থ্যবান একজন মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ছিল। সে-ই গুলি চালিয়েছে। মোটরসাইকেল ড্রাইভ করেছে হালকা-পাতলা গড়নের এক যুবক।
যান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ ঠিকাদার।
রাজধানীর মতিঝিলের আরামবাগের কমিশনার গলিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুলতান আহমেদ (৪২) বাসাবোর কদমতলা, সবুজবাগের ইব্রাহিম মিয়ার পুত্র। তাদের গ্রামের বাড়ি ঢাকার ধামরাইয়ের কৃষ্ণনগরে।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, আরামবাগের মকবুল প্লাজায় সুলতান আহমেদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএসআই প্রাইভেট লিমিটেডের সামনে তাকে গুলি করা হয়। গাড়ি থেকে নামার পরপরই তাকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি করে দুর্বৃত্তরা। একটি মোটরসাইকেলে দুই দুর্বৃত্তকে দেখা গেছে বলে জানান সুলতানের ঘনিষ্ঠজন ফরিদ আহমদ ও গাড়িচালক আমির হোসেন। চালক আমির তখন গাড়ি পার্কিং করছিলেন। পরে সুলতানকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনটি গুলি সুলতানের বুকে, পাঁজরে ও পিঠে বিদ্ধ হয়। ঘটনার খবর পেয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আশরাফুজ্জামান, সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইফুর রহমান, মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরমান আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কি কারণে, কে বা কারা ঠিকাদার সুলতান আহমেদকে হত্যা করেছে এ সম্পর্কে নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, আগে সুলতানকে একবার অপহরণ করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলার জের ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
২০১১ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অপহৃত হন সুলতান আহমেদ। এ সময় ৭-৮ দুর্বৃত্ত অস্ত্র দেখিয়ে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। গাড়িতে তোলার পর তার হাত-পা ও চোখ বাঁধা হয়। পরদিন ২১শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা তাকে খামারবাড়ি এলাকায় ফেলে যায়। তার আগে অপহরণকারীরা সুলতানকে বেধড়ক মারধর করে তার কাছ থেকে ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর আদায় করে। এ ঘটনায় আফজাল হোসেনকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করে ২৪শে সেপ্টেম্বর মতিঝিল থানায় মামলা করেন সুলতান। ওই মামলার আসামি আফজাল হোসেন পাবনা জেলার বেরা থানার গোবিন্দা গ্রামের বাসিন্দা। তার নেতৃত্বেই অপহরণ করা হয়েছিল বলে সুলতান মামলায় অভিযোগ করেন।
সূত্র মতে, ২০১১ সালে আফজালের এলাকা পাবনার বেরায় ১০ কোটি টাকার খাল খননের কাজ করেছিলেন ঠিকাদার সুলতান। আফজাল তখন ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এমনকি সুলতানের ঢাকার অফিসে এসেও আফজাল এই চাঁদা দাবি করে বলে জানান সুলতানের ঘনিষ্ঠজন ফরিদ আহমেদ। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরপরই তাকে অপহরণ করা হয়। কিন্তু মামলা দায়েরের দুই মাস পর তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে পুলিশ আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে। পরে সুলতানের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত হয়। ওই মামলায় চার্জ গঠন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল শেষ পর্যায়ে। আগামী ২৬শে জুন এই মামলায় আদালতে সাক্ষী দেয়ার কথা ছিল সুলতানের। তার আগেই তাকে হত্যা করায় সন্দেহের তীর অপহরণ মামলার আসামি আফজাল হোসেনের দিকে। এ ছাড়া ঠিকাদারি দ্বন্দ্বের জের ধরে অন্য কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি-না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইফুর রহমান বলেন, ঠিকাদারি দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এ ছাড়াও সুলতানের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিলিং মিশনে যে দুই যুবক অংশ নিয়েছিল তাদের গ্রেপ্তার করতে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিলিং মিশনে অংশ নেয়া দুই যুবকের মধ্যে স্বাস্থ্যবান একজন মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ছিল। সে-ই গুলি চালিয়েছে। মোটরসাইকেল ড্রাইভ করেছে হালকা-পাতলা গড়নের এক যুবক।





