চট্টগ্রাম বন্দর
বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে দিয়েই নির্মাণ করা হবে গভীর সমুদ্রবন্দর৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের আগেই এই ঘোষণাটি এসেছে৷ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীও বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷

ছয় দিনের এক সরকারি সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার চীনে গেছেন৷ আগামী ৯ই জুন বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠকের পর, গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে ঘোষণাটি করার কথা রয়েছে৷ চীন শুরু থেকেই বলে আসছে যে, তাদের দিয়ে এই বন্দরটি নির্মাণ করা হলেই শুধুমাত্র তারা এই খাতে আর্থিক সহযোগিতা করবে৷

কয়েকদিন আগে মূল পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড'-কে কার্যাদেশ দেয়া হয়৷ চীনের এই কোম্পানি ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায় সেতুটি নির্মাণের দরপত্র দাখিল করেছে বলে খবর৷ আগামী জুন-জুলাই মাসে কাজ শুরু হওয়ার কথা৷ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ চার বছরে শেষ হবে, অর্থাৎ ২০১৮ সালে এই সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলবে৷

গত বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের সোনাদিয়ায় প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড'-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড' আগ্রহ দেখিয়েছে৷ এর বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড' এবং নেদারল্যান্ডসের ‘রটারডাম পোর্ট'-ও প্রস্তাব দিয়েছিল৷ তবে রটারডাম পোর্ট এই বন্দর নির্মাণে আগ্রহ দেখালেও, খোদ তাদের বন্দরটিই নির্মাণ করেছে ডিপি ওয়ার্ল্ড৷ এছাড়া নতুন করে সমীক্ষা পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেদারল্যান্ডস তেমন আগ্রহী ছিল না৷ তার ওপর তাদের বিনিয়োগ প্রস্তাবটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকর্ষণীয়ও মনে হয়নি৷ তাই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি তিনটি প্রস্তাব বিবেচনার পর চীনের প্রস্তাবের পক্ষে মত দেয়৷

চীনের আর্থিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, ‘‘চীনের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা গ্রহণের ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে৷ কারণ, তারা কোনো না কোনো বাণিজ্যিক শর্তে এ ধরনের ঋণ দিতে চায়৷ শুরুতে সহযোগিতার প্রক্রিয়া শিথিল থাকলেও পরে ঋণচুক্তিতে নানা রকম শর্ত জুড়ে দেয়৷ কাজেই দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বোচ্চটা আদায়ের জন্য এক্ষেত্রে দর-কষাকষি করা বাঞ্ছনীয়৷ সুতরাং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদ্মা সেতু ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে৷''

সুত্র: DW.DE
Disclaimer:
This post might be introduced by another website. If this replication violates copyright policy in any way without attribution of its original copyright owner, please make a complain immediately to this site admin through Contact.