ইসলামি ইরান ২০১১ সালে আটক একটি
অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোনের হুবহু নকল তৈরি করেছে। প্রযুক্তিগত দিকের
পাশাপাশি কার্যকারিতায়ও এটি মার্কিন ড্রোনটির অনুরূপ।
অবশ্য ২০১২ সালে যখন ইরানি বিজ্ঞানীরা
জানান, তারা আরকিউ-১৭০ ড্রোনের প্রযুক্তি রপ্ত করেছেন তখন ওয়াশিংটন বলেছিল,
ইরান মিথ্যা দাবি করছে। ওয়াশিংটনের সে দাবির জবাব দিতে ইরানি প্রকৌশলিরা
আটক মার্কিন ড্রোনটি দিয়ে তোলা গোয়েন্দা ছবি প্রদর্শন করেন। ড্রোনটির পেটের
নীচে রাখা শক্তিশালী ক্যামেরা দিয়ে ইরান সীমান্ত থেকে আফগানিস্তানের ৪২০
কিলোমিটার ভেতরে কান্দাহার বিমান ঘাঁটির যে ছবি ও ভিডিও চিত্র তোলা হয়েছিল
তা প্রদর্শন করেন ইরানি বিজ্ঞানীরা।
রোববার ইসলামি রেভ্যুলুশনারি গার্ড বাহিনী
বা আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্সের কেন্দ্রীয় কমান্ডে এক প্রদর্শনীতে
নবনির্মিত ড্রোনটি দেখানো হয়। ইসলামি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল
উজমা খামেনেয়ী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
প্রদর্শনীতে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে
তৈরি ড্রোন শাহেদ ১২৯ ও শাহেদ ১২৫ও উন্মুক্ত করা হয়। ড্রোন তৈরি ও গবেষণার
ক্ষেত্রে আইআরজিসি’র সাফল্য তুলে ধরা এ প্রদর্শনীর প্রধান উদ্দেশ্য। এ
ছাড়া, এতে রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক
ক্ষেপণাস্ত্র ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে সেদেশের
আরকিউ-১৭০ মডেলের পাইলবিহীন গোয়েন্দা বিমান বা ড্রোন রাডার ফাঁকি দিতে
সক্ষম। সেইসঙ্গে উড়ন্ত অবস্থায় ভূমির নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে এটির যোগাযোগ
বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে এটি আকাশেই ধ্বংস হয়ে যায়।
কিন্তু এসব দাবি মিথ্যা প্রমাণ করে ইরানের
আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস বিভাগের প্রকৌশলিরা ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর একটি
মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোন মাটিতে নামিয়ে আনেন। আফগান সীমান্ত থেকে ২২৫
কিলোমিটার দূরে কাশমার শহরের আকাশে ওড়ার সময় ইরানি বিজ্ঞানীরা এর নিয়ন্ত্রণ
নেন এবং কোনো ক্ষতি ছাড়াই এটিকে মাটিতে নামিয়ে আনেন।
এরপর ২০১২ সালেই ইরানি বিজ্ঞানীরা ঘোষণা
করেন লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি ড্রোনটির প্রযুক্তি হস্তগত করেছেন তারা।
সে ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর এ প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন ড্রোনের মোড়ক উন্মোচন
করলো তেহরান।
১২ মে (রেডিও তেহরান)





