অসমের বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল এরিয়া ডিস্ট্রিকস বা বিটিএডি'র ক্ষমতাসীন দল বিপিএফে'র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী যুব ফ্রন্ট মুসলমানদের ওপর হামলা চালিয়ে নিমর্মভাবে হত্যা করেছে। আর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার বিপিএফকে কোনোভাবে রুষ্ট করতে চায় না। ফলে তারা এতবড় অপরাধ করার পরও তাদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাছাড়া সাধারণ মানুষের দাবি সত্ত্বেও সেখানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি।
মৃত্যু-উপত্যকা অসমের বড়োভূমির ঘরে ঘরে এখন কেবল ক্রন্দন রোল। ‘মুখ্য মন্ত্রী তরুণ গগৈ হিংসা-জর্জর বড়োল্যাণ্ডের নারায়ণগুড়িতে না আসা পর্যন্ত ঘাতক বাহিনীর গুলিতে নিহত আঠারটি মৃত দেহের দাফন নয়’ বলে মৃতের পরিবারবর্গ সাফ জানিয়ে দিলেও মৃত দেহে পচন ধরায় গতকাল রাজ্যের সমবায় ও সীমান্ত উন্নয়নমন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদের উপস্থিতিতে এক শোকাকুল পরিবেশে নিহতদের দাফন-কার্য সম্পন্ন করা হয়। আগামী মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ হিংসা-জর্জর বড়োল্যাণ্ডের নারায়ণগুড়িতে ভ্রমণ করার কথা রয়েছে।
এদিকে, আরোও দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৬ জনে। এখনো ২২ জন মুসলমান নিখোঁজ রয়েছেন। মৃতের সংখ্যা ৫৮ ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রকট হয়ে উঠছে। বাকসা জেলার গোবর্ধনায় বাশবাড়ি এলাকায় বেকি নদীতে ৯টি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর সন্দেহ করা হচ্ছে আরও মৃতদেহ ভেসে গেছে বেকি নদীর জলে। ওই নদীতে লাশ উদ্ধারের জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ঘাতক বাহিনীর বন্দুকের নিশানা থেকে বাঁচতে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পালাচ্ছিলেন বাবা। দৌড়াতে দৌড়াতে ছোট মেয়েটি সব্জি বাগানে ঢুকে পড়ে। ভয়ে কাদতে শুরু করে। কান্নার আওয়াজ লক্ষ্য করে নির্ভুল নিশানায় ছুটে আসে ঘাতক-বাহিনীর ছোড়া একে ৪৭-এর বুলেট এবং নিমিষে কেড়ে নেয় নিষ্পাপ ওই ছোট মেয়েটির প্রাণ। কোকড়াঝাড় থেকে ফিরে এসে এভাবে নরসংহারের বর্ণনা দিচ্ছিলেন রাজ্যের সমবায় ও সীমান্ত উন্নয়নমন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদ। সিদ্দেক হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি কংগ্রেসের জোট-শরিক বিপিএফ-কে সরাসরি দায়ী করছেন। তাঁর অভিযোগ, বিপিএফ নেত্রী তথা বিধায়িকা প্রমীলারানী ব্রহ্মের প্ররোচনায় বড়োল্যাণ্ডে ৩৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। গণহত্যায় মদদ দেওয়ার জন্য প্রমীলারানী ব্রহ্মকে গ্রেপ্তারেরও দাবি করেন অসম সরকারের অকূতোভয় মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদ।  “সরকারে থেকেও আমি অসহায়”—সিদ্দেকের এ মন্তব্যে তোলপাড় গোটা রাজ্য।

নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন মানস অভয়ারণ্যের বাশবাড়ি রেঞ্জের রেঞ্জার অমিয়কুমার ব্রহ্ম। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় আরও পাঁচ বনকর্মী—ব্রজেন বড়ো, বিজিত বড়ো, অনিল বড়ো, বিজন বড়ো ও জয়ন্ত বড়ো।

উল্লেখ্য, কিছুদিন পূর্বে বিপিএফ নেত্রী তথা বিধায়িকা প্রমীলারানী ব্রহ্মের তৎপরতায় মানস অভয়ারণ্যের বাশবাড়ি রেঞ্জের রেঞ্জার অমিয়কুমার ব্রহ্মকে বদলি করে এখানে আনা হয়েছে।

এদিকে, ছাত্র সংগঠন আবসুর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ তাঁর কন্যা-দড়াস্থ বাসভবনে মিলিত হয়ে হিংসা-জর্জর বড়োল্যাণ্ডে শান্তি-সম্প্রতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করার অনুরোধ জানান। বড়োল্যাণ্ডের আওতাধীন প্রতিটি অ-বড়ো গ্রাম প্রতি ১০ জন বলবান যুবককে আত্মরক্ষার জন্য সরকারী তরফে প্রশিক্ষণ দেয়ার পর বন্দুক হাতে তুলে দেবার সরকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

“অ-বড়োদের হাতে বন্দুক তুলে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং জলন্ত আগুনে ঘৃতাহুতি হবে”—বললেন এম, পি, বিজয়া চক্রবর্তী। তিনি উপদ্রুত এলাকা ঘুরে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে “ভয়াতুর” আখ্যা দেন। বিটিএডিকে ভেঙে দেয়াই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ বলে তাঁর অভিমত।