২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার রমনা
বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মামলায় হরকাত-উল জিহাদ (হুজি) নেতা
মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
দিয়েছেন আদালত।
২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল মামলায় বিএনপি নেতা
সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ ১৪ আসামির
বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর আজ (সোমবার) ঢাকার
দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন এ রায় ঘোষণা করেছেন। এ সময়
মামলার আসামি মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ৯ আসামি আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মুফতি আব্দুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসেন,
আরিফ হোসেন সুমন, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো.
আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবু বকর।
এদের মধ্যে মুফতি হান্নান, মাওলানা আকবর হোসেন ও আরিফ হোসেন সুমন কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা ফলাতক।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মাওলানা
সাব্বির ওরফে মান্নান, মাওলানা শওকত ওসমান এরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর
রউফ, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা সাদাত উল্যাহ জুয়েল, মাওলানা ইয়াহিয়া।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই কারাগারে রয়েছেন।
গত ১৬ জুন রায়ের দিন ধার্য থাকলেও এক
সপ্তাহ পিছিয়ে সোমবার নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়। এর আগে গত ২৮ মে মামলায়
উভয়পক্ষের অধিকতর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ওইদিন আদালত রায়ের জন্য দিন
ধার্য করেন। সে সময় মুফতি হান্নানসহ ৯ আসামি আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) রমনায়
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে জঙ্গিদের ভয়াবহ বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে
ঘটনাস্থলে ৯ জন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। আহত
হন অনেকে।
এ ঘটনায় ওই দিনই বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির
সার্জেন্ট অমল চন্দ্র বাদী হয়ে রমনা থানায় দুটি মামলা করেন। একটি হত্যা
মামলা এবং অন্যটি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলা। মামলা দুটির অভিযোগপত্র
একইসঙ্গে দাখিল করা হয়। পরে বিচারের জন্য ঘটনার আট বছর পর মামলা দুটি ২০০৯
সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। একই
বছরের ১৬ এপ্রিল মামলা দুটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা
হয়। বিস্ফোরক আইনের মামলাটি ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে
বিচারাধীন।
আলোচিত এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা বারবার
পরিবর্তন, সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল, বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তদন্ত
কর্মকর্তাদের আদালতে সাক্ষ্য দিতে না আসা ইত্যাদি কারণে বিচার শুরু হতে
বিলম্ব হয়।
অবশেষে অধিকতর তদন্ত শেষে সাত বছর পর ২০০৮
সালের ২৯ নভেম্বর হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে
আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ
(সিআইডি)।
(রেডিও তেহরান)





