![]() |
| সাবেক সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি |
মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যে ফল প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে অবসরপ্রাপ্ত ফিল্ড মার্শাল সিসি পেয়েছেন ৯৬ শতাংশ ভোট৷ পাঁচ কোটি ৪০ লাখ ভোটারের মধ্যে ৪৬ শতাংশ এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করা হলেও, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সিসির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হামদিন সাবাহি৷ তিনি নিজে ৩ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছেন৷
২০১২ সালের নির্বাচনের কথা বাদ দিলে মিশরের জনগণ শাসক হিসেবে কেবল সেনাপ্রধানদেরই দেখে এসেছে৷ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সিসি প্রেসিডেন্ট হিসাবে আইনি বৈধতা পেলেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে৷
হোসনি মুবারকের তিন দশকের স্বৈরাশাসনের অবসানের পর, ২০১২ সালে মিশরের ইতিহাসের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মুরসি৷ কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় এবং সিসির নেতৃত্বে সেনাবাহিনী মুরসিকে উৎখাত করে৷
মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ হওয়ায় এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আল-সিসির জয় এতটাই নিশ্চিত ছিল যে ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ দেখা যায়নি মোটেই৷ যদিও সিসি ৮০ শতাংশ ভোট বাক্সে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন৷
সরকারি প্রচারমাধ্যম শেষ পর্যন্ত ৪৬ শতাংশ ভোট পড়ার কথা দাবি করলেও পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই হার ২০ শতাংশের মতো হবে৷ আর বামপন্থি প্রার্থী হামদিন সাবাহির দাবি, ভোট পড়ার হার কোনোভাবেই ১৫ শতাংশের বেশি হবে না৷
এই সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ভোটের প্রথম দিন ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়৷ এরপর বুধবারের ভোট চলার মধ্যেই ভোটের সময় আরো একদিন বাড়ানোর চেষ্টা চলে৷
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাপদাহের কারণে অনেকেই কেন্দ্রে যেতে না পেরে ভাটের দিন বাড়ানোর আবেদন করেছেন৷ তবে অনেকেই একে ‘জালিয়াতির চেষ্টা' হিসাবে আখ্যায়িত করায় বুধবারই ভোটগ্রহণ শেষ হয়৷
DW.DE





