গত ৩ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ভারতের গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী গোপিনাথ মুন্ডে। মাত্র কয়েক দিন আগেই তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের অনেক লোকই তাকে চেনেন। তার মৃত্যুর পর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের হিন্দু মৌলবাদী নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি শোকবার্তা পাঠান। শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, মুন্ডের মতো ‘খ্যাতিমান’ রাজনীতিকের মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন ‘ভালো বন্ধু’ হারাল। এ জন্য তিনি তার নিজের এবং দেশের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেন। আজীবন বাংলাদেশবিরোধী একটি দলের একজন নেতাকে বাংলাদেশের ‘ভালো বন্ধু’ বানিয়ে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী।
এর কয়েক দিন আগে গত ১৬ মে ভারতের নির্বাচনের ফল ঘোষণা শেষ হওয়ার আগেই শেখ হাসিনা মোদিকে টেলিফোন করেন। সেই টেলিফোনের বিষয়বস্তু এখানে রেখেঢেকে প্রকাশ করা হলেও ভারতের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা আসল খবর ফাঁস করে দেয়। পত্রিকাটি জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোদিকে তার প্রথম বিদেশ সফরের স্থান হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেয়ার ‘অনুরোধ’ করেন। এছাড়া ঢাকাকে ‘দ্বিতীয় নিবাস’ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য হিন্দুত্ববাদী নেতার প্রতি অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা। কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী একজন সরকারপ্রধান আরেকজন সরকারপ্রধানকে নিজ দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু প্রথম সফরেই তার দেশে আসতে হবে এমন অনুরোধ করার কোনো রেওয়াজ সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান করেন না। কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেই প্রধানমন্ত্রী এমনটা করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এ অনুরোধ সম্ভবত বিফলে যাচ্ছে, প্রথম বিদেশ সফরে মোদি জাপান যাচ্ছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।শেখ হাসিনা মোদির মনোযোগ আকর্ষণে কেন এত মরিয়া, সেই প্রশ্ন এখন উঠছে বেশ জোরেশোরেই।
এমন নয় যে, রাজনৈতিক আদর্শের দিক থেকে শেখ হাসিনা এবং মোদি একই পথের অনুসারী। আওয়ামী লীগ ও বিজেপির রাজনৈতিক দর্শনও এক নয়।
আওয়ামী লীগ দালিলিকভাবেই একটি ধর্মনিরপেক্ষ বা সেক্যুলার দল- বাস্তত অর্থে সেক্যুলার। সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ধর্মের কোনো প্রভাব রাখতে চায় না দলটি। অন্যদিকে বিজেপি ঠিক তার বিপরীত মতাদর্শের। হিন্দু জাতীয়তাবাদ এর মূল দর্শন। সেক্যুলারিজম দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার এক সময় যেমন রেডিও-টিভিতে আজান বন্ধ করেছিল, বিজেপি ঠিক তার বিপরীতে হিন্দু ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ করতে চায়।
এ রকম দুটি বিপরীত ধারার আদর্শের সরকারের মধ্যে শুরুর দিকে বেশ দূরত্ব বজায় থাকাটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের কাছে এসব আদর্শ যেন অতি তুচ্ছ। ফলে সেক্যুলার আওয়ামী লীগ এখন হিন্দুত্ববাদী বিজেপির কোলে চড়তে ব্যাকুল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের ক্ষমতার পালাবদলে সবচেয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগকে। দলটির কয়েক যুগের পরীক্ষিত মিত্র এবং ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস এবারের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে। এতে প্রমাদ গুনছে আওয়ামী লীগ সরকার। মূলত কংগ্রেস সরকারের বেপরোয়া সমর্থনের কারণেই আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারির একটি ভোটারবিহীন একদলীয় নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করার সাহস দেখিয়েছে। ক্ষমতা দখলের পর আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে আরো কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। নিজ দেশে জনসমর্থন তলানিতে ঠেকেছে। অর্থনীতি বিপর্যস্ত। দলীয় সল্কন্ত্রাসীদের খুন-খারাবিতে দেশ এক মৃত্যু-উপত্যকা।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার। জনমতও প্রবলভাবেই সেদিকে ঝুঁকে আছে। অদূর ভবিষ্যতে আরেকটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে সরকারের সাঁড়াশি আক্রমণের শিকার বিরোধী দলগুলোও। এ অবস্থায় ভারত সরকারের আশীর্বাদ যদি আওয়ামী লীগ না পায়, তবে ক্ষমতায় টিকে থাকা দলটির জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য মোদি সরকারের সমর্থন আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। ফলে গোপিনাথ মুন্ডেও এখন বাংলাদেশের ‘ভালো বন্ধু’।
এর কয়েক দিন আগে গত ১৬ মে ভারতের নির্বাচনের ফল ঘোষণা শেষ হওয়ার আগেই শেখ হাসিনা মোদিকে টেলিফোন করেন। সেই টেলিফোনের বিষয়বস্তু এখানে রেখেঢেকে প্রকাশ করা হলেও ভারতের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা আসল খবর ফাঁস করে দেয়। পত্রিকাটি জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোদিকে তার প্রথম বিদেশ সফরের স্থান হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেয়ার ‘অনুরোধ’ করেন। এছাড়া ঢাকাকে ‘দ্বিতীয় নিবাস’ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য হিন্দুত্ববাদী নেতার প্রতি অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা। কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী একজন সরকারপ্রধান আরেকজন সরকারপ্রধানকে নিজ দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু প্রথম সফরেই তার দেশে আসতে হবে এমন অনুরোধ করার কোনো রেওয়াজ সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান করেন না। কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেই প্রধানমন্ত্রী এমনটা করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এ অনুরোধ সম্ভবত বিফলে যাচ্ছে, প্রথম বিদেশ সফরে মোদি জাপান যাচ্ছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।শেখ হাসিনা মোদির মনোযোগ আকর্ষণে কেন এত মরিয়া, সেই প্রশ্ন এখন উঠছে বেশ জোরেশোরেই।
এমন নয় যে, রাজনৈতিক আদর্শের দিক থেকে শেখ হাসিনা এবং মোদি একই পথের অনুসারী। আওয়ামী লীগ ও বিজেপির রাজনৈতিক দর্শনও এক নয়।
আওয়ামী লীগ দালিলিকভাবেই একটি ধর্মনিরপেক্ষ বা সেক্যুলার দল- বাস্তত অর্থে সেক্যুলার। সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ধর্মের কোনো প্রভাব রাখতে চায় না দলটি। অন্যদিকে বিজেপি ঠিক তার বিপরীত মতাদর্শের। হিন্দু জাতীয়তাবাদ এর মূল দর্শন। সেক্যুলারিজম দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার এক সময় যেমন রেডিও-টিভিতে আজান বন্ধ করেছিল, বিজেপি ঠিক তার বিপরীতে হিন্দু ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ করতে চায়।
এ রকম দুটি বিপরীত ধারার আদর্শের সরকারের মধ্যে শুরুর দিকে বেশ দূরত্ব বজায় থাকাটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের কাছে এসব আদর্শ যেন অতি তুচ্ছ। ফলে সেক্যুলার আওয়ামী লীগ এখন হিন্দুত্ববাদী বিজেপির কোলে চড়তে ব্যাকুল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের ক্ষমতার পালাবদলে সবচেয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগকে। দলটির কয়েক যুগের পরীক্ষিত মিত্র এবং ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস এবারের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে। এতে প্রমাদ গুনছে আওয়ামী লীগ সরকার। মূলত কংগ্রেস সরকারের বেপরোয়া সমর্থনের কারণেই আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারির একটি ভোটারবিহীন একদলীয় নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করার সাহস দেখিয়েছে। ক্ষমতা দখলের পর আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে আরো কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। নিজ দেশে জনসমর্থন তলানিতে ঠেকেছে। অর্থনীতি বিপর্যস্ত। দলীয় সল্কন্ত্রাসীদের খুন-খারাবিতে দেশ এক মৃত্যু-উপত্যকা।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার। জনমতও প্রবলভাবেই সেদিকে ঝুঁকে আছে। অদূর ভবিষ্যতে আরেকটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে সরকারের সাঁড়াশি আক্রমণের শিকার বিরোধী দলগুলোও। এ অবস্থায় ভারত সরকারের আশীর্বাদ যদি আওয়ামী লীগ না পায়, তবে ক্ষমতায় টিকে থাকা দলটির জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য মোদি সরকারের সমর্থন আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। ফলে গোপিনাথ মুন্ডেও এখন বাংলাদেশের ‘ভালো বন্ধু’।





