আট বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের আহ্বায়ক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম গতকাল বুধবার আশরাফুলের বিরুদ্ধে এ শাস্তি ঘোষণা করেন। আশরাফুলের সঙ্গে শাস্তি ভোগ করতে হবে বিপিএলে তার দল ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিক শিহাব জিসান চৌধুরীকেও। তিনি নিষিদ্ধ হয়েছেন ১০ বছরের জন্য। এই মেয়াদে ক্রিকেটের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে থাকতে হবে তাকে। এ ছাড়া শাস্তি পেতে হয়েছে লু ভিনসেন্ট ও কৌসল লুকারাচ্চিকেও। নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার এই দুই ক্রিকেটারের শাস্তির মেয়াদ যথাক্রমে তিন বছর ও ১৮ মাস। গতকাল আশরাফুল ও তার আইনজীবীর উপস্থিতিতে রায় জানিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল। অনুপস্থিত অভিযুক্তদের তাদের রায় জানানো হয় স্কাইপের মাধ্যমে। এদিকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আশরাফুল। ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারি শেষ করে দিল আশরাফুলের ক্যারিয়ার। তার কলঙ্কিত বিদায়ে শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্ণাঢ্য এক অধ্যায়েরও। যে অধ্যায়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দ-বেদনা, উল্লাস-হতাশার নানা রং।
২০০১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর টেস্ট অভিষেক হয় আশরাফুলের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই টেস্টে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরি করার বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। আশরাফুলের সেই রেকর্ড এখনো অক্ষত। ৬১ টেস্ট খেলে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের সেরা এই ব্যাটিং প্রতিভা। বিশ্বের সব বড় দলের বিপক্ষে অসাধারণ ব্যাটিং দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন ১৭৭ ওয়ানডে খেলা এই ব্যাটসম্যান। ওয়ানডেতে ৩টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ২০টি হাফ সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি। বেশ কয়েকটি ম্যাচ একা হাতে বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছেন আশরাফুল। একটা সময় তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের একমাত্র ‘পোস্টার বয়’ ছিলেন তিনি। নিজের ব্যাটিং দ্যুতিতে যেভাবে সুপার স্টার বনে গিয়েছিলেন, ঠিক তার উল্টোভাবেই কলঙ্কিত হয়ে খসে পড়লেন আশরাফুল। আগামী আট বছর সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হবে আশরাফুলকে। আট বছরের দীর্ঘ সাজার মেয়াদ শেষ করে ৩০ বছর বয়সী তারকার ফের ক্রিকেটে ফেরা প্রায় অসম্ভব।
এদিকে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে একাধিক ম্যাচে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে সব। ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মোহাম্মদ আশরাফুলসহ তাদের একাধিক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। ট্রাইব্যুনাল আশরাফুলের মোট চারটি অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে শাস্তি ঘোষণা করেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্ব পায় গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে তার অপরাধ। ওই ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফির বদলে অধিনায়কত্ব করেন আশরাফুল। একই সঙ্গে ফিক্সিংয়ের প্রমাণ মেলে দলটির মালিক শিহাব চৌধুরীর বিপক্ষেও। পরে আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিটের (আকসু) সুপারিশে ফিক্সিংয়ের বিচার করার জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। মোট দশজন অভিযুক্তের বিচার করেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের মধ্যে চারজন চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হন। গতকাল এই চারজনেরই শাস্তি ঘোষণা করা হয়। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণ না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। মোহাম্মদ আশরাফুলকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শিহাব চৌধুরীকে জরিমানা করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।
আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেও আশরাফুল যদি শাস্তির মেয়াদের প্রথম পাঁচ বছর আইসিসি, এসিসি ও বিসিবির পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বা বিশেষ শিক্ষা উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন এবং সংস্থাগুলোর নির্দেশনা অনুযায়ী চলেন, তবে তার শাস্তির শেষ তিন বছর মওকুফ করা হতে পারে। শাস্তি ঘোষণার সময় এমনটি জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল আহ্বায়ক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি জানান, আশরাফুল এবং শাস্তি পাওয়া অন্য তিনজন আগামী ২১ দিনের মধ্যে ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে আপিল করতে পারবেন। এরপর তারা চাইলে সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতেও নিজেদের শাস্তির বিপক্ষে আপিলের সুযোগ পাবেন।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়। যাতে নির্দোষ বলে রায় দেয়া হয় অভিযুক্ত মোহাম্মদ রফিক, মোশাররফ হোসেন রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিনকে। তাদের সঙ্গে নির্দোষ হিসেব রায় দেয়া হয় ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী গৌরব রাওয়াদ ও ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন স্টিভেন্সকে। ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ে যৌথ বিবৃতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছিল আইসিসি ও বিসিবি।
গত এক বছর থেকে আশরাফুল সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল প্রধান জানান, আট বছরের শাস্তিতে এই এক বছরও ধরা হবে। ফলে আশরাফুলকে ভোগ করতে হবে সাত বছরের শাস্তি। এর মধ্যে তিনি যদি আইসিসি, বিসিবি ও এসিসির কথা পাঁচ বছর মেনে চলেন, তবে শাস্তি বাদ যাবে আরো তিন বছর। তারপরও অন্তত চার বছর নিষিদ্ধ থাকতে হবে ৩০ বছর বয়সী আশরাফুলকে। এ সময়টা পার করে আবার ক্রিকেট মাঠে আশরাফুলের ফেরা প্রায় অসম্ভব। সে হিসেবে আপাত দৃষ্টিতে মোহাম্মদ আশরাফুলের ক্যারিয়ারের শেষ ঘোষণা করে দেয়া যায় কোনো রকম ঝুঁকি ছাড়াই। ক্যারিয়ারজুড়ে রহস্যময় উত্থান-পতনের জন্য আলোচনায় থাকা আশরাফুলের শেষটাও যে এতটা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে, তিনি নিজেও কি কখনো ভেবেছিলেন তা?
গতকাল ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীসহ উপস্থিত ছিলেন আশরাফুল। রায়ের কপি আগেই হাতে পেয়েছিলেন তিনি। চূড়ান্ত রায় ঘোষণার মাধ্যমে শাস্তির মেয়াদও কাল জানিয়ে দেয়া হয়েছে। রায়ের পর মুঠোফোনে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘২১ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার যে সুযোগ আছে, সেটা আমি করব। আপাতত এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।’
২০০১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর টেস্ট অভিষেক হয় আশরাফুলের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই টেস্টে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরি করার বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। আশরাফুলের সেই রেকর্ড এখনো অক্ষত। ৬১ টেস্ট খেলে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের সেরা এই ব্যাটিং প্রতিভা। বিশ্বের সব বড় দলের বিপক্ষে অসাধারণ ব্যাটিং দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন ১৭৭ ওয়ানডে খেলা এই ব্যাটসম্যান। ওয়ানডেতে ৩টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ২০টি হাফ সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি। বেশ কয়েকটি ম্যাচ একা হাতে বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছেন আশরাফুল। একটা সময় তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের একমাত্র ‘পোস্টার বয়’ ছিলেন তিনি। নিজের ব্যাটিং দ্যুতিতে যেভাবে সুপার স্টার বনে গিয়েছিলেন, ঠিক তার উল্টোভাবেই কলঙ্কিত হয়ে খসে পড়লেন আশরাফুল। আগামী আট বছর সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হবে আশরাফুলকে। আট বছরের দীর্ঘ সাজার মেয়াদ শেষ করে ৩০ বছর বয়সী তারকার ফের ক্রিকেটে ফেরা প্রায় অসম্ভব।
এদিকে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে একাধিক ম্যাচে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে সব। ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মোহাম্মদ আশরাফুলসহ তাদের একাধিক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। ট্রাইব্যুনাল আশরাফুলের মোট চারটি অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে শাস্তি ঘোষণা করেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্ব পায় গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে তার অপরাধ। ওই ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফির বদলে অধিনায়কত্ব করেন আশরাফুল। একই সঙ্গে ফিক্সিংয়ের প্রমাণ মেলে দলটির মালিক শিহাব চৌধুরীর বিপক্ষেও। পরে আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিটের (আকসু) সুপারিশে ফিক্সিংয়ের বিচার করার জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। মোট দশজন অভিযুক্তের বিচার করেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের মধ্যে চারজন চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হন। গতকাল এই চারজনেরই শাস্তি ঘোষণা করা হয়। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণ না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। মোহাম্মদ আশরাফুলকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শিহাব চৌধুরীকে জরিমানা করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।
আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেও আশরাফুল যদি শাস্তির মেয়াদের প্রথম পাঁচ বছর আইসিসি, এসিসি ও বিসিবির পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বা বিশেষ শিক্ষা উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন এবং সংস্থাগুলোর নির্দেশনা অনুযায়ী চলেন, তবে তার শাস্তির শেষ তিন বছর মওকুফ করা হতে পারে। শাস্তি ঘোষণার সময় এমনটি জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল আহ্বায়ক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি জানান, আশরাফুল এবং শাস্তি পাওয়া অন্য তিনজন আগামী ২১ দিনের মধ্যে ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে আপিল করতে পারবেন। এরপর তারা চাইলে সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতেও নিজেদের শাস্তির বিপক্ষে আপিলের সুযোগ পাবেন।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়। যাতে নির্দোষ বলে রায় দেয়া হয় অভিযুক্ত মোহাম্মদ রফিক, মোশাররফ হোসেন রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিনকে। তাদের সঙ্গে নির্দোষ হিসেব রায় দেয়া হয় ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী গৌরব রাওয়াদ ও ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন স্টিভেন্সকে। ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ে যৌথ বিবৃতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছিল আইসিসি ও বিসিবি।
গত এক বছর থেকে আশরাফুল সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল প্রধান জানান, আট বছরের শাস্তিতে এই এক বছরও ধরা হবে। ফলে আশরাফুলকে ভোগ করতে হবে সাত বছরের শাস্তি। এর মধ্যে তিনি যদি আইসিসি, বিসিবি ও এসিসির কথা পাঁচ বছর মেনে চলেন, তবে শাস্তি বাদ যাবে আরো তিন বছর। তারপরও অন্তত চার বছর নিষিদ্ধ থাকতে হবে ৩০ বছর বয়সী আশরাফুলকে। এ সময়টা পার করে আবার ক্রিকেট মাঠে আশরাফুলের ফেরা প্রায় অসম্ভব। সে হিসেবে আপাত দৃষ্টিতে মোহাম্মদ আশরাফুলের ক্যারিয়ারের শেষ ঘোষণা করে দেয়া যায় কোনো রকম ঝুঁকি ছাড়াই। ক্যারিয়ারজুড়ে রহস্যময় উত্থান-পতনের জন্য আলোচনায় থাকা আশরাফুলের শেষটাও যে এতটা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে, তিনি নিজেও কি কখনো ভেবেছিলেন তা?
গতকাল ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীসহ উপস্থিত ছিলেন আশরাফুল। রায়ের কপি আগেই হাতে পেয়েছিলেন তিনি। চূড়ান্ত রায় ঘোষণার মাধ্যমে শাস্তির মেয়াদও কাল জানিয়ে দেয়া হয়েছে। রায়ের পর মুঠোফোনে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘২১ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার যে সুযোগ আছে, সেটা আমি করব। আপাতত এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।’





