ঋণের ভারে জর্জরিত পুঁজিবাজার। শত চেষ্টা করেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না। গতি ফিরে আসছে না বাজারগুলোতে। মাঝে মধ্যে সাময়িক গতি এলেও তা টেকসই হচ্ছে না। ফলে বিনিয়োগকারীরা যে যার অবস্থান থেকে লোকসান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও তাতে কোনো ফল হচ্ছে না। বাজারে সক্ষমতা ধরে রাখা ুদ্র একটি অংশ সাময়িক এ ভালো অবস্থার সুযোগ নিতে পারলেও বেশির ভাগের লোকসানের পাল্লা দিন দিন ভারী হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুনর্বিনিয়োগ করে দর সমন্বয় করেও কাজ হচ্ছে না। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ ঋণের জালে আটকে পড়ার কারণেই এমনটি ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের পর ব্যাপক দরপতনের কারণে বাজারে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভয়াবহ ঋণের জালে আটকা পড়ে যায়। ঋণগ্রহীতা কয়েক লাখ গ্রাহক শিকার হয় এই পরিস্থিতির। টানা দরপতনের ফলে তারা এ সময় নিজেদের পুঁজি হারানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এখনো ঋণের জালে আটকে আছেন। একইভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ঋণ প্রদান করতে গিয়ে নিজ নিজ মূল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছেও দায়বদ্ধ হয়ে রয়েছে। আর ঋণের এ চক্রে খাবি খাচ্ছে গোটা পুঁজিবাজার। এক হিসেবে জানা যায় বিপর্যয়ের পর পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা মার্জিন লোনে আটকে রয়েছে। ঋণপ্রদানকারী বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজের এ ঋণ লক্ষাধিক বিনিয়োগকারীর কাছে যার অধিকাংশ গ্রাহক হিসেবেই এখন নিষ্ক্রিয়। এ হিসেবে গ্রাহকদের পুঁজিতো নেই তার ওপর প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বড় অঙ্কের ঋণ গুনতে হচ্ছে যা সুদের আকারে দিন দিন আরো বাড়ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ধারণকৃত শেয়ার বিক্রি করার পরও সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় হিসাবধারী গ্রাহকরা না পারছেন এ ঋণ শোধ করতে না পারছেন পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব হিসাব সক্রিয় করতে।
বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এভাবেই এখন বাজারের বাইরে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনোভাবে ঋণ গ্রহণকারী এসব গ্রাহকের হিসাব সক্রিয় করা গেলে বাজার কিছুটা হলেও গতি ফিরে পেত। এ ধারণা থেকেই গত তিন বছরেরও বেশি সময় সরকার ও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বাজারের মূল সমস্যা মার্জিন ঋণের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর প থেকে কার্যকর কোনো পদপে নেয়নি। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের শেষ দিকে বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফে ৯০০ কোটি টাকার তহবিল যোগান দিলেও ঋণের আকারের তুলনায় তা খুবই নগণ্য বলে খুব একটা কার্যকর ফল পায়নি। এ ছাড়া এ তহবিল ঠিক কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট ধোঁয়াশা। তাই বারবার সময় বৃদ্ধি করার পরও এ ঋণ গ্রহণে বিনিয়োগকারীদের যথাযথ সাড়া পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।
অন্য দিকে পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার। শুরুতে মোট দায়ের ১০ শতাংশ বিনিয়োগ সুবিধা থাকলেও এখন তা কমিয়ে মোট মূলধনের ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ২০১০ সালের পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের আগে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এ সীমা মানেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান মোট দায়ের ২৫ শতাংশের ওপর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে বসে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক লাগাম টেনে ধরলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে। সেখানেই শুরু পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের। আর এর জের চলছে গত তিন বছরের ও বেশি সময়। এখনো কালেভদ্রে বাজারগুলো সাময়িক মূল্য বৃদ্ধির ধারায় ফিরলে ঋণ সমন্বয়ের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রয়চাপের শিকার হচ্ছে পুঁজিবাজার। আর এর ফল ভোগ করছে বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা না পারছেন বাজারে টিকে থাকতে না পারছেন ব্যাপক লোকসান ঘাড়ে নিয়ে বাজার ছাড়তে। এ অবস্থা থেকেই ক্রমান্বয়ে আস্থাহীনতা বাড়ছে পুঁজিবাজারে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শুধু সুদ মওকুফ বা এ ধরনের ছোটখাটো কোনো উদ্যোগ শেয়ারবাজারের এ সমস্যা নিরসন সম্ভব নয়। বড় ধরনের তারল্য প্রবাহ ঘটাতে না পারলে বাজারগুলো স্বাভাবিক গতি পাবে না। তারা মনে করেন, কমপক্ষে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহলের সাথে বসে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে যাতে সরকারও একটি নির্দিষ্ট সময়ে এ টাকা ফেরত পায় আবার তা পুঁজিবাজারে রক্তপ্রবাহের কাজও করে। বাংলাদেশ ব্যাংককেও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে যাতে তারা এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয় যা প্রকারান্তরে পুঁজিবাজারের স্বার্থের বিপক্ষে যায়। আবার তহবিলেরও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তাদের মতে, যেকোনো প্রক্রিয়ায় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজগুলোর বিনিয়োগ হিসাব আবার সক্রিয় করার ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ সক্ষম বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক। তাদের একবার সচল করা গেলে বাজার তার সুফল পাবে।
পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের পর ব্যাপক দরপতনের কারণে বাজারে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভয়াবহ ঋণের জালে আটকা পড়ে যায়। ঋণগ্রহীতা কয়েক লাখ গ্রাহক শিকার হয় এই পরিস্থিতির। টানা দরপতনের ফলে তারা এ সময় নিজেদের পুঁজি হারানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এখনো ঋণের জালে আটকে আছেন। একইভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ঋণ প্রদান করতে গিয়ে নিজ নিজ মূল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছেও দায়বদ্ধ হয়ে রয়েছে। আর ঋণের এ চক্রে খাবি খাচ্ছে গোটা পুঁজিবাজার। এক হিসেবে জানা যায় বিপর্যয়ের পর পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা মার্জিন লোনে আটকে রয়েছে। ঋণপ্রদানকারী বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজের এ ঋণ লক্ষাধিক বিনিয়োগকারীর কাছে যার অধিকাংশ গ্রাহক হিসেবেই এখন নিষ্ক্রিয়। এ হিসেবে গ্রাহকদের পুঁজিতো নেই তার ওপর প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বড় অঙ্কের ঋণ গুনতে হচ্ছে যা সুদের আকারে দিন দিন আরো বাড়ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ধারণকৃত শেয়ার বিক্রি করার পরও সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় হিসাবধারী গ্রাহকরা না পারছেন এ ঋণ শোধ করতে না পারছেন পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব হিসাব সক্রিয় করতে।
বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এভাবেই এখন বাজারের বাইরে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনোভাবে ঋণ গ্রহণকারী এসব গ্রাহকের হিসাব সক্রিয় করা গেলে বাজার কিছুটা হলেও গতি ফিরে পেত। এ ধারণা থেকেই গত তিন বছরেরও বেশি সময় সরকার ও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বাজারের মূল সমস্যা মার্জিন ঋণের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর প থেকে কার্যকর কোনো পদপে নেয়নি। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের শেষ দিকে বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফে ৯০০ কোটি টাকার তহবিল যোগান দিলেও ঋণের আকারের তুলনায় তা খুবই নগণ্য বলে খুব একটা কার্যকর ফল পায়নি। এ ছাড়া এ তহবিল ঠিক কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট ধোঁয়াশা। তাই বারবার সময় বৃদ্ধি করার পরও এ ঋণ গ্রহণে বিনিয়োগকারীদের যথাযথ সাড়া পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।
অন্য দিকে পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার। শুরুতে মোট দায়ের ১০ শতাংশ বিনিয়োগ সুবিধা থাকলেও এখন তা কমিয়ে মোট মূলধনের ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ২০১০ সালের পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের আগে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এ সীমা মানেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান মোট দায়ের ২৫ শতাংশের ওপর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে বসে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক লাগাম টেনে ধরলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে। সেখানেই শুরু পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের। আর এর জের চলছে গত তিন বছরের ও বেশি সময়। এখনো কালেভদ্রে বাজারগুলো সাময়িক মূল্য বৃদ্ধির ধারায় ফিরলে ঋণ সমন্বয়ের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রয়চাপের শিকার হচ্ছে পুঁজিবাজার। আর এর ফল ভোগ করছে বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা না পারছেন বাজারে টিকে থাকতে না পারছেন ব্যাপক লোকসান ঘাড়ে নিয়ে বাজার ছাড়তে। এ অবস্থা থেকেই ক্রমান্বয়ে আস্থাহীনতা বাড়ছে পুঁজিবাজারে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শুধু সুদ মওকুফ বা এ ধরনের ছোটখাটো কোনো উদ্যোগ শেয়ারবাজারের এ সমস্যা নিরসন সম্ভব নয়। বড় ধরনের তারল্য প্রবাহ ঘটাতে না পারলে বাজারগুলো স্বাভাবিক গতি পাবে না। তারা মনে করেন, কমপক্ষে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহলের সাথে বসে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে যাতে সরকারও একটি নির্দিষ্ট সময়ে এ টাকা ফেরত পায় আবার তা পুঁজিবাজারে রক্তপ্রবাহের কাজও করে। বাংলাদেশ ব্যাংককেও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে যাতে তারা এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয় যা প্রকারান্তরে পুঁজিবাজারের স্বার্থের বিপক্ষে যায়। আবার তহবিলেরও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তাদের মতে, যেকোনো প্রক্রিয়ায় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজগুলোর বিনিয়োগ হিসাব আবার সক্রিয় করার ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ সক্ষম বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক। তাদের একবার সচল করা গেলে বাজার তার সুফল পাবে।





