গতকাল(বুধবার) চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভিকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
চীনকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন দুঃসময়ে বাংলাদেশের পাশে থেকে বন্ধুত্বের পরীক্ষা দিয়েছে চীন। তাই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের গতিশীল সম্পর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করা হবে।”
চীনা সাংবাদিক ইয়াং রুইয়ের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি চারবার চীন সফর করেছি। যখনই আমি চীনে এসেছি তখনই দেশটিতে নতুন নতুন পরিবর্তনও লক্ষ্য করেছি। ১৯৯৩ সালে আমি প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে, ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং এবারো প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই চীনে এসেছি। প্রতিবারই এদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও উন্নয়নের ছোঁয়া দেখেছি।”
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের অগ্রগতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'চীন আমাদের উন্নয়নের অংশীদার, আমাদের দেশের বহু সেতু নির্মাণের কাজ করেছে চীন। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আরো অনেক ক্ষেত্রেই চীন সহায়ক ভূমিকা রাখছে।'
চীন ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরো ভালো ও গতিশীল হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উল্লেখ্য, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরের প্রথম পর্যায়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় কুনমিং নগরীতে যান। সেখান থেকে ৮ জুন তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছান। চীনের রাজধানীতে অবস্থানকালে তিনি সে দেশর প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন।
আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা এবং পটুয়াখালীতে যৌথ উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া উভয় দেশের মধ্যে তিনটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি পত্র বিনিময় (ইওএল) স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারকগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রামে চীনের অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় গার্মেন্টস পল্লী প্রতিষ্ঠা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে গতকাল দেশে ফিরেছেন।
-রেডিও তেহরান





