কলেজের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে নিদারুণ কষ্টে পড়েছেন তাহমিনা আক্তার। এক হাতে বইপত্রের ব্যাগ অন্য হাতে ছাতা আর জুতা। পা ডুবে আছে পানির নিচে। কাদা-পানি তার ওপর গর্ত। এভাবে চরম দুর্ভোগের মধ্যে গত রোববার সকালে তার কলেজে যাওয়া। ডিএনডির দেলপাড়া আদর্শনগরের বাসিন্দা রিমা আক্তার লিপি তোলারাম কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি জানালেন, টানা বৃষ্টিতে তাদের কষ্টের শেষ নেই। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকেছে, রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। তার মধ্যে কাদা আর বড় বড় গর্ত। ক্যানেলগুলোতে পানি চলাচল বন্ধ। কি যে দুর্ভোগ, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
একইভাবে আক্ষেপের সুরে ডিএনডির টাওয়ারপার এলাকার বাসিন্দা হাজী আবুবকর সিদ্দিকের অভিযোগ, ডিএনডির মানুষের কষ্ট আর দুর্ভোগ কি কেউ দেখে? এক দিকে রাস্তাঘাটের বেহাল, অন্য দিকে ড্রেনের ব্যবস্থা নেই। ক্যানেলগুলো ময়লাআবর্জনায় ভরে গেছে। পানি সরবরাহ কম হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে রিকশা কিংবা অন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের কি যে কষ্ট শুরু হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা বর্ষণে ডিএনডিতে বসবাসকারী বিপুল মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। ডিএনডির নি¤œাঞ্চলের অনেকের বসতবাড়িতে পানি উঠেছে। পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এর মধ্যে মেরামত না করায় অনেক রাস্তায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এক দিকে অঝোর বৃষ্টি অন্য দিকে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে দুর্ভোগ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ডিএনডি এলাকার বাসিন্দা কুতুবপুর ইউপির ৪ নম্বর মেম্বর জাহাঙ্গীর আলম জানান, ৩৩ বছরেও ডিএনডি এলাকার মানুষের দুঃখকষ্ট আর দুর্ভোগ দূর হয়নি। প্রতি বছর বর্ষাকাল আসে অভিশাপ হয়ে। ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট ডুবে যায় পানিতে। কষ্টের মধ্যে মানুষকে বসবাস করতে হয়।
সূত্র জানায়, ডিএনডির মূল পরিসীমা ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন। সরেজমিন দেখা গেছে, টানা বর্ষণে ডিএনডির দেলপাড়া ভুইগড়, আর্দশনগর, চিতাশাল, নুরবাগ, কুসুমবাগ, শাহীবাজার রসুলপুর, নিশ্চিন্তপুর, রামারবাগ, নন্দলালপুর, তক্বারমাঠ, লালপুর, ইসদাইর, লামপাড়া গাবতলি, জালকুড়ি, পাগলা, নয়ামাটি, সিদ্ধিরগঞ্জ, মিজিমিজি, বাগমারা, সানারপাড়, মৌচাক, মামুদপুর, মাদবরবাজার, তুষারধার, গিরিধারা, মাতুয়াইল, শনিরআখড়া, নামাশ্যামপুর, মোহাম্মদবাগসহ বিভিন্ন এলাকার নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের বাসাবাড়িতে পানি উঠেছে। রাস্তা তলিয়ে গেছে পানির নিচে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরার (ডিএনডি) নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণ হলো এখানে ক্যানলগুলো ময়লাআবর্জনায় ভরে যাওয়ার কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর তোলার পরও অনেকে পাানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখেনি। এতে সামান্য বৃষ্টিতে ডিএনডির নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। সূত্র জানায়, ডিএনডি এলাকায় প্রায় ১২ লাখ মানুষের বসবাস। ডিএনডি বাঁধ এলাকার আয়তন ৩২ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার। ইরিধান চাষাবাদের জন্য ১৯৬৫ সালে ডিএনডি বাঁধ নির্মাণ শুরু করা হয়। তখন ডিএনডির ভেতরে সেচ প্রকল্প ছিল পাঁচ হাজার ৬৪ হেক্টর।
সূত্র জানায়, আশির দশকের পর থেকে লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতরে জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটের ভাটা, ছোট-বড় শিল্পকারখানা নির্মাণ করে। অপরিকল্পিত আবাসিক ও কলকারখানা নির্মাণের কারণে ডিএনডি বাঁধ এলাকায় প্রতি বছরই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ নিয়ে এলাকাবাসী দীর্ঘ দিন আন্দোলন করে কিন্তু নিয়মনীতি না থাকায় খালগুলোতে ময়লাআবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া খালের দুই পাশ দখল করে দোকানঘর, বাড়ি, কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ করে মাছ চাষ করা হয় অনেক স্থানে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতে, আবাসিক ও শিল্পবর্জ্য ফেলার কারণে ডিএনডির নিষ্কাশন খালগুলোর কার্যকারিতা কমে গেছে। বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু ক্যানেল নেটওয়ার্ক এবং পাম্প সচল থাকায় বর্তমানে ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা সহনীয়পর্যায়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার জলাবদ্ধতা ও নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১১৩ কিলোমিটার খালের বর্জ্য অপসারণের জন্য সরকার জরুরিভিত্তিতে তিন কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১২ সালের ৩০ জুন প্রকল্পকাজ শেষ করে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত প্রকল্পের অগ্রগতিসংক্রান্ত প্রতিবেদনের তালিকায় ডিএনডি এলাকার খালের বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করার কাজটি ১ নম্বর তালিকাভুক্ত করে গত ২৮ এপ্রিল মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইলের ডিএনডি পাম্পহাউজের একজন কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রধান নিষ্কাশন খালগুলো দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই খালগুলোর পথগুলোও পরিষ্কার রয়েছে। কিন্তু শাখা খালগুলো ময়লাআবর্জনায় আটকে যাওয়ার কারণে ডিএনডির প্রধান খাল পর্যন্ত পানি যেতে পারছে না।
এ দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তারা ডিএনডি ক্যানেলের কয়েকটি স্থান অবৈধ দখলমুক্ত ও ময়লাআবর্জনা পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেছে।
একইভাবে আক্ষেপের সুরে ডিএনডির টাওয়ারপার এলাকার বাসিন্দা হাজী আবুবকর সিদ্দিকের অভিযোগ, ডিএনডির মানুষের কষ্ট আর দুর্ভোগ কি কেউ দেখে? এক দিকে রাস্তাঘাটের বেহাল, অন্য দিকে ড্রেনের ব্যবস্থা নেই। ক্যানেলগুলো ময়লাআবর্জনায় ভরে গেছে। পানি সরবরাহ কম হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে রিকশা কিংবা অন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের কি যে কষ্ট শুরু হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা বর্ষণে ডিএনডিতে বসবাসকারী বিপুল মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। ডিএনডির নি¤œাঞ্চলের অনেকের বসতবাড়িতে পানি উঠেছে। পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এর মধ্যে মেরামত না করায় অনেক রাস্তায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এক দিকে অঝোর বৃষ্টি অন্য দিকে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে দুর্ভোগ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ডিএনডি এলাকার বাসিন্দা কুতুবপুর ইউপির ৪ নম্বর মেম্বর জাহাঙ্গীর আলম জানান, ৩৩ বছরেও ডিএনডি এলাকার মানুষের দুঃখকষ্ট আর দুর্ভোগ দূর হয়নি। প্রতি বছর বর্ষাকাল আসে অভিশাপ হয়ে। ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট ডুবে যায় পানিতে। কষ্টের মধ্যে মানুষকে বসবাস করতে হয়।
সূত্র জানায়, ডিএনডির মূল পরিসীমা ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন। সরেজমিন দেখা গেছে, টানা বর্ষণে ডিএনডির দেলপাড়া ভুইগড়, আর্দশনগর, চিতাশাল, নুরবাগ, কুসুমবাগ, শাহীবাজার রসুলপুর, নিশ্চিন্তপুর, রামারবাগ, নন্দলালপুর, তক্বারমাঠ, লালপুর, ইসদাইর, লামপাড়া গাবতলি, জালকুড়ি, পাগলা, নয়ামাটি, সিদ্ধিরগঞ্জ, মিজিমিজি, বাগমারা, সানারপাড়, মৌচাক, মামুদপুর, মাদবরবাজার, তুষারধার, গিরিধারা, মাতুয়াইল, শনিরআখড়া, নামাশ্যামপুর, মোহাম্মদবাগসহ বিভিন্ন এলাকার নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের বাসাবাড়িতে পানি উঠেছে। রাস্তা তলিয়ে গেছে পানির নিচে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরার (ডিএনডি) নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণ হলো এখানে ক্যানলগুলো ময়লাআবর্জনায় ভরে যাওয়ার কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর তোলার পরও অনেকে পাানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখেনি। এতে সামান্য বৃষ্টিতে ডিএনডির নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। সূত্র জানায়, ডিএনডি এলাকায় প্রায় ১২ লাখ মানুষের বসবাস। ডিএনডি বাঁধ এলাকার আয়তন ৩২ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার। ইরিধান চাষাবাদের জন্য ১৯৬৫ সালে ডিএনডি বাঁধ নির্মাণ শুরু করা হয়। তখন ডিএনডির ভেতরে সেচ প্রকল্প ছিল পাঁচ হাজার ৬৪ হেক্টর।
সূত্র জানায়, আশির দশকের পর থেকে লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতরে জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটের ভাটা, ছোট-বড় শিল্পকারখানা নির্মাণ করে। অপরিকল্পিত আবাসিক ও কলকারখানা নির্মাণের কারণে ডিএনডি বাঁধ এলাকায় প্রতি বছরই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ নিয়ে এলাকাবাসী দীর্ঘ দিন আন্দোলন করে কিন্তু নিয়মনীতি না থাকায় খালগুলোতে ময়লাআবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া খালের দুই পাশ দখল করে দোকানঘর, বাড়ি, কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ করে মাছ চাষ করা হয় অনেক স্থানে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতে, আবাসিক ও শিল্পবর্জ্য ফেলার কারণে ডিএনডির নিষ্কাশন খালগুলোর কার্যকারিতা কমে গেছে। বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু ক্যানেল নেটওয়ার্ক এবং পাম্প সচল থাকায় বর্তমানে ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা সহনীয়পর্যায়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার জলাবদ্ধতা ও নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১১৩ কিলোমিটার খালের বর্জ্য অপসারণের জন্য সরকার জরুরিভিত্তিতে তিন কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১২ সালের ৩০ জুন প্রকল্পকাজ শেষ করে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত প্রকল্পের অগ্রগতিসংক্রান্ত প্রতিবেদনের তালিকায় ডিএনডি এলাকার খালের বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করার কাজটি ১ নম্বর তালিকাভুক্ত করে গত ২৮ এপ্রিল মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইলের ডিএনডি পাম্পহাউজের একজন কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রধান নিষ্কাশন খালগুলো দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই খালগুলোর পথগুলোও পরিষ্কার রয়েছে। কিন্তু শাখা খালগুলো ময়লাআবর্জনায় আটকে যাওয়ার কারণে ডিএনডির প্রধান খাল পর্যন্ত পানি যেতে পারছে না।
এ দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তারা ডিএনডি ক্যানেলের কয়েকটি স্থান অবৈধ দখলমুক্ত ও ময়লাআবর্জনা পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেছে।





