পাকিস্তানের করাচির জিন্নাহ
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 'জঙ্গিমুক্ত' ঘোষণা দেয়ার পর আজ (সোমবার) সকালে ফের
গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে নতুন করে অভিযানে
নামে নিরাপত্তা বাহিনী।
জিন্নাহ আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরের পুরনো টার্মিনাল আক্রান্ত হওয়ার পর পরই কাছাকাছির মালির
ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাবাহিনীকে তলব করা হয়। সেনাবাহিনীর সঙ্গে এএসএফ
কম্যান্ডো, আধা সেনা রেঞ্জার্স এবং পুলিশ এয়ারপোর্ট চত্বরকে জঙ্গিমুক্ত
করতে যৌথভাবে অভিযান চালায়। জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক
মেশিনগান এবং রকেট লঞ্চার। অভিযানের সময় করাচি বিমানবন্দর প্রায় ৬ ঘণ্টা
বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া, জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল
করা হয়।
দ্য ডন পত্রিকার অনলাইনে
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ (সোমবার) সকালে বিমানবন্দরের ভেতরে
নতুন করে গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। আজকের
গোলাগুলিতে পুলিশের একজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গতরাতে ছয় ঘণ্টাব্যাপী
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আজ সকালে পাকিস্তানের করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর 'জঙ্গিমুক্ত' ঘোষণা করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর
জেনারেল আসিম বাজওয়া জানান, হামলাকারী সব জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের
কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ভারী অস্ত্র, বোমা, গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে।
বিমানবন্দরটি এখন পুরোপুরি নিরাপদ।
কিন্তু এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার
মধ্যেই নতুন করে গোলাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামাবাদের বেনজির ভুট্টো
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও লাহোরে আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
গতকাল রোববার রাত থেকে শুরু করে
প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়। এতে ১০
জঙ্গি ও ১০ নিরাপত্তাকর্মীসহ ২৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বিমানবন্দরে চার
কর্মচারিও রয়েছেন।
সিন্ধু প্রদেশের
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগীর আহমেদ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ১০ জঙ্গি ছাড়াও ১৪ জন
নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিমানবন্দর নিরাপত্তা বাহিনীর (এএসএফ)
কর্মী, ইঞ্জিনিয়ার, সিএএ-পিআইএ'র কর্মী এবং একজন পুলিশ কর্মী। ঘটনায় প্রায়
১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে, করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধঘোষিত তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি।
দেশে ব্যস্ততম বিমানবন্দরে
তারাই হামলা চালিয়েছে বলে সোমবার নিষিদ্ধ সংগঠন ‘তেহরিকে তালেবান
পাকিস্তান’ বা টিটিপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "গত বছর মার্কিন বিমান হামলায় তাদের নেতা
হাকিমুল্লাহ মেহসুদ নিহত হন। ওই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে করাচি বিমানবন্দরে
হামলা চালানো হয়েছে।"
পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বলা
হয়েছে, রোববার রাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ভারী অস্ত্র
সজ্জিত হয়ে বিমানবন্দরে হামলা চালায়। হঠাৎ করে বোমা-গুলির শব্দে যাত্রীরা
হতভম্ব হয়ে পড়েন। কেঁপে ওঠে বিমানবন্দর চত্বর। সন্ত্রাসীরা বিমানবন্দরের
ভেতরে হ্যান্ড গ্রেনেডেরও বিস্ফোরণ ঘটায়।
সুত্র : রেডিও তেহরান





