বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্রিটেন সফর সফল হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত(বৃহস্পতিবার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ
মাহমুদ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গার্ল সামিটে
যোগদান এবং তার লন্ডন সফর সফল হয়েছে। আন্তর্জাতিক এবং কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করেন
তিনি।
তবে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে
প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান আজ
লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন,“অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা লন্ডনে এসে বৃটেনের কাছ থেকে তার সরকারের বৈধতার সার্টিফিকেট আদায়ে
ব্যর্থ হয়েছেন।
শেখ হাসিনা ২২ জুলাই ব্রিটিশ
প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে তিনি
(ক্যামেরন) বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচন সম্পর্কে বৃটিশ
সরকারের অসন্তোষের কথা স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন। ক্যামেরন বলেছেন, কথিত
ওই নির্বাচনে জনগণের ভোট ছাড়াই অর্ধেকেরও বেশি আসনে প্রাথীদের
বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে
এধরণের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়।“
তবে শেখ হাসিনার সাফল্যের দাবির
প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে
অফিসিয়ালি একটি প্রেস রিলিজ ইস্যু করা হয়। এতে শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার
সম্পর্কে ব্রিটেনের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক
বিশ্লেষক জনাব সাদেক খান রেডিও তেহরানকে বলেন, কূটনৈতিক সফর নিয়ে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে ভুল তথ্য পরিবেশন
করছেন, তাতে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশেরই বদনাম হচ্ছে। তাদের সততা
নিয়েই বিদেশীরা প্রশ্ন তুলছেন।
জনাব সাদেক খান মনে করেন, ৫ই জানুয়ারির
নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল তাদের দৃষ্টিভঙ্গি যে পাল্টায়নি সেটা
সরকারকে বুঝতে হবে। এ অবস্থায় জনগণের আন্দোলন জমে উঠলে সরকারকে চরম
মূল্য দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
আন্তর্জাতিক বিভাগের অধ্যাপক ড: অকমল হোসেন বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন
নিয়ে সরকার যে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে তা শেখ
হাসিনার সর্বশেষ কূটনৈতিক সফর থেকে আবারো প্রমাণ হয়েছে ।
তিনিও মনে করেন, সরকার যেভাবেই ব্যাখ্যা
করার চেষ্টা করুক না কেন পশ্চিমা দুনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র বা জাতিসংঘ
বাংলাদেশের ৫ ই জানুয়ারীর নির্বাচন প্রসঙ্গে তাদের আগের অবস্থানেই রয়েছে ।
সুত্র : রেডিও তেহরান





