ভিডিও ফুটেজের চার যুবকের দিকেই দৃষ্টি র্যাব-পুলিশসহ সব কটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। সম্ভাব্য সব কারণ নিয়ে কাজ করলেও প্রথমে চার যুবককে গ্রেফতার করতে চাইছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, এতে তদন্তের কাজ অনেক সহজ হবে। এরই মধ্যে চার যুবকের দুজনের ব্যাপারে কিছু তথ্যও পেয়েছেন তারা। তাদের গ্রেফতারের জন্য এখন সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তারা বলছেন, এতে তদন্তের কাজ অনেক সহজ হবে। এরই মধ্যে চার যুবকের দুজনের ব্যাপারে কিছু তথ্যও পেয়েছেন তারা। তাদের গ্রেফতারের জন্য এখন সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বনানীর ৪ নম্বর সড়কের ১১৩ নম্বর বাড়ির নিচতলার মেসার্স এস মুন্সী ওভারসিজে ঢুকে মো. সিদ্দিককে গুলি করে হত্যা করে চার যুবক। এ সময় অন্য কক্ষে থাকা তিনজনকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে বীরদর্পে বেরিয়ে যায়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আর্থিক বিরোধ কিংবা ব্যবসা-সংক্রান্ত ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েক মাস আগে টাঙ্গাইলে একটি মামলার আসামি করা হয় সিদ্দিককে। ওই মামলার নেপথ্য ইন্ধনদাতা হিসেবে আবদুস সালাম নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহ করতেন নিহত সিদ্দিক ও তার পরিবার। হাসান নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন মেসার্স এস মুন্সী ওভারসিজের হয়ে সাব-এজেন্টের কাজ করেছেন।
প্রতিটি কাজ থেকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন দেওয়া হতো হাসানকে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. শাহজাহান বলেন, ভিডিও ফুটেজের মাস্ক পরা চার যুবককে ছিঁচকে কোনো অপরাধী বলে মনে হয়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত এবং গ্রেফতারে সহযোগিতা করতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছেন তিনি। সূত্র বলছে, ব্যবসায়িক বিরোধকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। জনশক্তি রপ্তানি কিংবা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে হয়তো কারও সঙ্গে সিদ্দিকের আর্থিক সমস্যা থাকতে পারে। নিহতের মেয়েজামাই আবু হানিফ বলেন, ‘কারও সঙ্গে আমার শ্বশুরের শত্রুতা ছিল বলে আমার জানা নেই।
গত রোজার ঈদে সালাম নামের একজন বাবাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি একটি জিডি করেছিলেন। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সংযোগ থাকবে বলে আমার মনে হয় না। ’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মতিন বলেন, ‘চার যুবককে আইনের আওতায় আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। হয়তো শিগগিরই আপনাদের ভালো খবর দিতে পারব বলে আশা করছি। ’ তিনি বলেন, ওই চার যুবকের ছবি দেশের সব কটি বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডটিকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করেন তিনি।




