বাংলা নিউজ ডেস্ক:
ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার পূর্ণ বাস্তবায়ন চায় বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ’র সব সদস্য রাষ্ট্র । ইউনিয়নের একজন পদস্থ কর্মকর্তা। ইইউ’র এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের মহাসচিব হেলগা ষ্মিড তেহরান সফরে এসে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরান-ইইউ উচ্চ পর্যায়ের তৃতীয় দফা বৈঠকে অংশ নিতে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল নিয়ে সোমবার তেহরান সফরে আসেন ষ্মিড। দ্বিপক্ষীয় ওই বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফের সঙ্গে এক সাক্ষাতে একথা জানান তিনি।
সাক্ষাতে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সিরিয়া, ইয়েমেন, কাতার ও লেবাননসহ আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও জারিফ এবং ষ্মিড মতবিনিময় করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চলমান রাজনৈতিক সংকট কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করতে হবে।
সাক্ষাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশ ২৮ জাতির ইইউ’র সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে সংলাপ চালিয়ে যেতে চায়।
এর আগে ইরানের সঙ্গে ইইউ’র পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন বিষয়ক তৃতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তেহরানে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও ইইউ’র পক্ষ থেকে হেলগা ষ্মিড নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
জার্মানি ও জাতিসংঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্যদেশ আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া ও চীনকে নিয়ে গঠিত ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই পরমাণু সমঝোতা সই করে ইরান। ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি ওই সমঝোতা বাস্তবায়ন শুরু হয়।
সমঝোতা অনুযায়ী পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার বিনিময়ে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচিতে কিছুটা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। আমেরিকা ইরানের সঙ্গে ওই সমঝোতা স্বাক্ষরে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতাটি বাতিল করার পাঁয়তারা করছেন।
ইরান চুক্তি রক্ষার অঙ্গীকার ইইউর
২০১৫ সালে ইরানের সাথে করা পরমাণু চুক্তি রক্ষার অঙ্গীকার করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সম্প্র্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সাথে করা পরমাণু চুক্তি প্রত্যয়ন না করার ঘোষণা দেয়ার পর গতকাল সোমবার ইইউ এই ঘোষণা দিয়েছে। তারা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার আহ্বান জানিয়েছে।
বৈদেশিক নীতিতে নিকটতম মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ কড়াভাবে সতর্ক করেছে জার্মানি ও ফ্রান্স। তারা বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়া প্রতিরোধের এই চুক্তির কোনো দুর্বলতা সৃষ্টি হলে ব্যাপকভাবে শান্তি বিঘ্নিত হবে।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে ইউরোপীয়রা উদ্বিগ্ন এবং এর ফলে ইরানের সাথে আমাদের আবার সামরিক সংঘাতে ফিরে যেতে হতে পারে।’
২০১৫ সালে চুক্তির সময় চূড়ান্ত পর্যায়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইইউ বৈদেশিক নীতিবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি। এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মোকাবেলা করার বিষয়ে ২৮ জাতির গোষ্ঠীটি কিভাবে এগিয়ে আসবে আলোচনা করেন এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়েও মন্ত্রীরা আলোচনা করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, এরকম খারাপ চুক্তি আর কখনো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণবিক সংস্থার (আইএইএ) কাছে অভিযোগ করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে ফেডেরিকা মোঘেরিনি জোর দিয়ে বলেছেন এই চুক্তিতে কাজ হচ্ছে। তেমনি আইএইএ বলেছে, ইরান এই চুক্তি মেনে চলছে।
ইইউর ঐক্যের আহ্বান পোপের
ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবাইকে ঐকবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাথলিকপন্থী খ্রিষ্টান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। তিনি বলেন, ‘যদি সবার জন্য স্বচ্ছতা ও উন্নতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হয়, তবে অবশ্যই ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ শনিবার রয়টার্সের খবরে এ তথ্য জানা যায়।
খবরে বলা হয়, রি থিংকিং ইউরোপ নামে দুই দিনের এক সম্মেলনে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন পোপ। কাতালোনিয়ার পরিস্থিতি কিংবা ব্রেক্সিট সরাসরি উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি একটি গোষ্ঠীর মতো থাকতে চাওয়া উচিত। এজন্য ত্যাগ, ঐক্য ও দলগত কাজ করা জরুরি।





