বাংলা নিউজ ডেস্ক:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর আলাতুলি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া দুর্গম পদ্মার চরের জঙ্গি আস্তানা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা সবাই জেএমবির সক্রিয় সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাবের একটি দল বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া ছিন্নভিন্ন তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। 
এবিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান মুফতি মাহমুদ জানান, এখান থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তল, তিনটি গ্রেনেড, সাতটি ডেটেনেটর, ১২টি পাওয়ার জেল ও বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত তিনজনের পরিচয় পাওয়া না গেলেও তারা জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে জঙ্গি সন্দেহে দম্পতিসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে র‌্যাবের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আটককৃতরা হলো, ওই বাথানবাড়ির মালিক রাশিকুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগম, নাজমার মা মিনারা ও বাবা খোরশেদ আলম। বাড়ির মালিক রাশিকুল ইসলাম আলাতুলি নতুনপাড়ার আতাউর রহমান ওরফে কালুর ছেলে। এই বাথান বাড়িতেই তার শ্বশুর ও শাশুড়িও থাকতেন। চর আলাতুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ জানান, বাথান বাড়িতে রাশিকুল, তার স্ত্রী, ১৫ বছর বয়সী এক ছেলে এবং তার শ্বশুর থাকতেন। তবে মালিক রাশিকুল ইসলাম ক্যান্সারে আক্রান্ত। বছর চারেক আগে গরু-ছাগল পালনের সুবিধার জন্য তিনি ওই বাথানবাড়িটি বানিয়েছিলেন। তবে নির্জন এলাকা হওয়ায় বাড়িটিতে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর ব্যাপারে তারা কিছু টের পাননি। এর আগে মঙ্গলবার ভোররাতে পদ্মার ওপারে চরআলাতুলি ইউনিয়নের মধ্যচর এলাকার ওই বাথানবাড়িতে ওই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় র‌্যাব। এরপর সেখানে র‌্যাব সদস্যরা অভিযানে গেলে গোলাগুলীর ঘটনাও ঘটে। পরে বিস্ফোরণে বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে বাড়িটি ঘিরে অভিযান চালায় র‌্যাব সদস্যরা। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় র‌্যাবের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দল। এরপর সেখানে অভিযান শুরু করে দলটি। র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান মুফতি মাহমুদ সংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত থেকেই ঘিরে রাখা হয় বাড়িটি। এরপর ভোররাতে সেখানে অবস্থানকারীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু সাড়া না দিয়ে বাড়ির ভেতরে দুই দফা বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম জানান, ভোররাতে বাড়িটিতে অভিযানের শুরুতেই সেখান থেকে গুলী ও গ্রেনেড ছুঁড়ে দুর্বৃত্তরা। পরে বিস্ফোরণ ঘটালে বাড়িটির একটি অংশে আগুন ধরে যায়। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ হেলিকপ্টারযোগে পৌঁছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।