বাংলা নিউজ ডেস্ক:
মোঃ মসলেম উদ্দিন: পুলিশের কাছে ঘুষের টাকা ফেরৎ চাওয়ায় আসামীর ছেলে ও ভাতিজাকে আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরদিন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ২দিন পর মঙ্গলবার সে টাকা ফেরৎ দিয়েছেন ওই এস.আই। জানা যায়, মাদক মামলার আসামী নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের বাহেরকেদার সাহেবের খান গ্রামের রুহুল আমিন বাবুর নাম চার্জশীট থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আবু সিদ্দিকের মধ্যস্থায় ১০হাজার টাকা ঘুষ নেয় কচাকাটা থানার এস.আই শফিকুল ইসলাম। পরবর্তীতে চার্জশীর্ট থেকে তার নাম বাদ না দেওয়ায় টাকা ফেরৎ চায় বাবু। এতে গড়িমসি করলে গত রবিবার মাদারগঞ্জ গাবতলা বাজারে গ্রাম পুলিশ আবু সিদ্দিক ও বাবুর স্বজনরা আবারো টাকা ফেরৎ চাইলে এসআই শফিকুল রেগে যান। এরই জের ধরে ওইদিন রাতে বাবুর বাড়ীতে সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালায় এসআই শফিকুল ইসলাম। পরে বাবুকে না পেয়ে তার ছেলে কচাকাটা ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্র হাবিবুর রহমান ও তার ভাই শাহাজালালের ছেলে একই কলেজের এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র দুলাল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরিবারের লোকজন এতে বাঁধা দিলে পুলিশের মারপিটে আহত হয় বাবুর স্ত্রী হাসিনা (৩০), শাহাজালালের মেয়ে শাহাজাদী (১৮), আজাহারের স্ত্রী রহিমা (৭০), হাসান আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২৭)। বিষয়টি জানতে পেয়ে কেদার ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোমবার সকাল ৯টায় থানায় গিয়ে আটককৃতদের ছাড়িয়ে আনেন। এনিয়ে জল ঘোলা হলে অত:পর ঘটনার ২দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে ওই গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ঘুষের ১০ হাজার টাকা ফেরৎ দেন এস.আই শফিকুল ইসলাম।
কেদার ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, বাবুর নামে ওয়ারেন্ট ছিল। রাতে বাড়িতে গিয়ে তাকে পায়নি। পরে পুলিশের সাথে পরিবারের লোকজনের ধস্তাধস্তি হয়। রাগে পুলিশ তার ছেলে ও ভাতিজাকে তুলে নিয়ে যায়। সোমবার সকালে ওসির সাথে কথা বলে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়। ঘুষের টাকার বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না বলে জানান।
গ্রাম পুলিশ আবু সিদ্দিক বলেন ঘুষের ওই টাকা নেয়ার একাধিক ফোন রেকর্ড আমার সংগ্রহে রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আমার মাধ্যমে সে টাকা ফেরৎ পাঠিয়েছেন ওই এস.আই।
এ বিষয়ে এস.আই শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে বলেন টাকা আমি নেইনি। যদি কেউ নিয়ে থাকে তারা ফেরৎ দিলে দিয়েছে। আমি কিছু জানিনা। তবে ইতোপুর্বে বাবু চার্জশীট থেকে তার নাম বাদ দেয়ার জন্য অনেকবার আমাকে অনুরোধ করে। আমি সে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক খলিল মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী বাবুর সন্ধান জানতে তার ছেলে ও ভাতিজাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। সকালে চেয়ারম্যান বলার পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ঘুষের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি এ থানায় যেগদান করার আগের ঘটনা এটি। এ সব বিষয়ে আমার জানার কথা নয়।
সরেজমিনে গেলে জানা যায়, কচাকাটা থানার এস.আই শফিকুল ইসলাম গত ২৪ আগষ্ট বাহের কেদার মৌজার সাহেবের খাষ এলাকার নুর ইসলামের ছেলে আলম মিয়াকে দুই বোতল ভারতীয় মদসহ আটক করে। ২৫ আগষ্ট মামলা দায়ের করলে পার্শ্ববর্তী গ্রামের আমিনুল ইসলাম বাবুকেও ওই মামলার আসামী করা হয়।





