ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মুসেল শহরের তুর্কি
কনস্যুলেটে হামলা চালিয়েছে আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী
আইএসআইএল। আজ (বুধবার) এ হামলা চালিয়ে তারা কনস্যুলেটের প্রধানসহ তুরস্কের
৪৮ নাগরিককে অপহরণ করেছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি তার
দেশে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির জন্য সৌদি আরব ও কাতারকে দায়ী করে বলেছেন,
সৌদি রাজা আব্দুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেয়ার প্রধান হোতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুরস্কের একজন
সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রেস টিভি জানিয়েছে, অপহৃতদের মধ্যে
কনস্যুলেটের ২৫ জন স্টাফ এবং তিনটি শিশু রয়েছে। অবশ্য তুরস্কের পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় এখনো এ ব্যাপারে মন্তব্য করে নি। তবে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আহমেত দাউদওগলু পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য আমেরিকা সফর সংক্ষিপ্ত করে
আঙ্কারার পথে রওনা হয়েছেন। ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কে তিনি কয়েকটি জরুরি বৈঠক
বাতিল করেছেন।
উগ্র তাকফিরি গোষ্ঠী আইএসআইএল এর আগে
সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। সিরিয়ায় আসাদ
বিরোধী যুদ্ধে এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দানকারী অন্যতম দেশ হলো
তুরস্ক।
আরেক খবরে জানা গেছে, তুর্কি
প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়্যেব এরদোগান এ বিষয়ে কথা বলার জন্য উপ
প্রধানমন্ত্রী বেসির আতালাই ও তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি’র প্রধান
হাকান ফিদানের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।
এর একদিন আগে মঙ্গলবার আইএসআইএলের
সন্ত্রাসীরা মোসুলের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানী সরবরাহের সময় অন্তত ৩০
জন তুর্কি ট্রাক চালককে অপহরণ করে। এখনো এসব ট্রাক চালকের অবস্থান শনাক্ত
করা সম্ভব হয় নি।
মঙ্গলবার ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় নেইনাভা
প্রদেশের রাজধানী মোসুল দখল করে নেয় তাকফিরি সন্ত্রাসীরা। এ নিয়ে বিদেশি
মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের হাতে ইরাকের দ্বিতীয় শহরের পতন হলো। গত জানুয়ারিতে
তারা ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফালুজা শহর দখল করেছিল। সৌদি আরব ও সিরিয়া থেকে
আইএসআইএল-এর সন্ত্রাসীরা ইরাকে প্রবেশ করছে। আর এ সন্ত্রাসীদের অর্থ ও
অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের আঞ্চলিক
মিত্র বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক।
সুত্র : (রেডিও তেহরান)





