বাহরাইনে এক বছর ধরে শত শত স্কুল
শিক্ষার্থীকে আটক রাখার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দেশটির জনগণ রাজতন্ত্র
বিরোধী বিক্ষোভ করেছে। শনিবার সেদেশের বহু গ্রামের অধিবাসীরা রাজার
বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানাতে রাস্তায় নেমে আসেন।
বাহরাইনের সিতরা, দিরাজ এবং মা’মিরসহ আরো বহু গ্রামের লোকজন ব্যানার নিয়ে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে মিছিল বের করেন।
বাহরাইনের নিরাপত্তা বাহিনী ২০১৩ সালে
বিভিন্ন বাড়ি ও স্কুলে হানা দিয়ে ২১৪ জন স্কুল শিক্ষার্থীকে আটক করেছে
বলে নতুন করে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এসব বিক্ষোভ হয়। বাহরাইনের প্রধান
বিরোধী দল আল-ওয়েফাক এই খবর প্রকাশ করে আরো বলেছে, সরকার গত বছর থেকে এখন
পর্যন্ত ৭,০০০ ব্যক্তিকে আটক করেছে।
২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাহরাইনের
জনগণ রাজতন্ত্র বিরোধী বিক্ষোভ করে আসছে। সরকার এই বিক্ষোভ কঠোর হাতে দমন
করতে গিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করে এবং শত শত মানুষকে আহত করে। সম্প্রতি
সেদেশের একটি আদালত ২১ জন বিরোধী নেতা-কর্মীর প্রত্যেককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড
দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ
জানিয়েছেন।
আল-ওয়েফাক জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিনা
বিচারে আটক রাখা, বিচার বিভাগীয় মামলার ফাঁদে ফেলা এবং তাদের ওপর শারিরীক ও
মানসিক নির্যাতন এখন বাহরাইনে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। খবরে আরো বলা
হয়েছে, সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় অবকাঠামো
ধ্বংস করছে।
বাহরাইন সরকার গত কয়েক বছর ধরে রাজতন্ত্র
বিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লংঘন করে আসছে। অ্যামনেস্টি
ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বহুবার দেশটির সরকারকে
বিক্ষোভকারীসহ সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে।
সুত্র: (রেডিও তেহরান)





