আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির সঙ্গে
জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশের শিশু সাহিত্যিক টিপু কিবরিয়াসহ তিনজনকে গ্রেফতার
করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। টিপু ও তার সহযোগিরা শিশুদের পর্নো ভিডিও তৈরির
পর বিভিন্ন পে-ওয়েবসাইটে বিক্রি করে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানি এক্সচেঞ্জ-এর
মাধ্যমে অর্থ আয় করে আসছিল।
সামাজিক অবক্ষয় সুস্থ বিনোদনের অভাব,
ব্যক্তিগত হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ পেতে সহজলভ্য প্রযুক্তি
ব্যবহার করে তরুণ-যুবকরা সহজেই এ পথে পা বাড়াচ্ছে। এ ব্যাপারে বিশেষ করে
উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের প্রতি অভিভাবকদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।
২০০৫ সালে বাংলাদেশের শিশু পর্নোগ্রাফি
বিদেশে পাচার হয় বলে ইন্টারপোলের কাছে অভিযোগ যায়। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে
নজরদারি চালিয়ে ২০১৪ সালে ইন্টারপোল টিপু কিবরিয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়।
শিশু সাহিত্যিক টিপু কিবরিয়ার মূল নাম
ফখরুজ্জামান। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় ‘রহস্য’ নামের একটি মাসিক প্রকাশনায়
কাজ করতেন। পেশায় তিনি একজন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী। বাজারে তার ৫০টিরও
ওপর বই রয়েছে।
মোবাইল ফোনসহ নানা ডিজিটাল প্রযুক্তির
ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফির ব্যবসা ছাড়াও ইন্টারনেটে বা মোবাইল ফোনের
মাধ্যমে কিশোরী ও নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনা অহরহই ঘটছে। বিশেষ করে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে এবং ফোনে
ফ্লেক্সিলোড করাতে গিয়ে বা অন্যভাবে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বা ছবি
ব্যবহার করে একটি ভুয়া একাউন্ট খুলে এসব প্রতারণা করা হচ্ছে। অনেক সময়
ব্যক্তিগত বন্ধু, সহপাঠী, প্রতারক প্রেমিক বা চেনাজানা কেউ ফেসবুকে অশ্লীল
স্ট্যাটাস বা পর্নোছবি আপলোড করে মেয়েদেরকে তাদের অজান্তেই এরকম হয়রানির
শিকার বানিয়ে ফেলে।
এ প্রসঙ্গে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল
ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান প্রফেসর
ড. এম জাহাঙ্গীর কবির রেডিও তেহরানকে বলেন, প্রযুক্তির অপব্যাহার রোধে
সরকারকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়া মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর
অনৈতিক বিজ্ঞাপনও বন্ধ করারও দাবি জানান অধ্যাপক জাহাঙ্গীর কবির।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স
অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আধ্যাপক ড. সুরাইয়া পারভিন বলেন,সহজলভ্য
প্রযুক্তির জোয়ারে ভেসে তরুণরা এর অনৈতিক ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়েছে এটা
খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সামাজিক সচেতনতা
বাড়াতে হবে এবং বিশেষ করে পারিবারিক পর্যায়ে ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে সতর্ক
থাকতে হবে।
সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করেন, আমাদের
পারিবারিক, সামাজিক জীবনে নৈতিক শিক্ষার দুর্বলতার কারণেই প্রধানত:
তরুণরা লোভ ও অন্যের ক্ষতি করার মানসিকতা থেকে এসব অসামাজিক কার্যকলাপে
মেতে উঠেছে।
(রেডিও তেহরান)





