বাংলা নিউজ ডেস্ক:
বরফগলা পানিতে ফুলে-ফেঁপে সমুদ্র ক্রমে গ্রাস করবে বিশ্বের অনেক শহর। সেদিন আসতে হয়তো যথেষ্ট দেরি।
তবে আরেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্প আগামী বছর বড় মাপের আঘাত হানতে পারে। গত মাসে জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব আমেরিকার বার্ষিক বৈঠকে কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের রজার বিলহ্যাম এবং মন্টানা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেবেকা বেনডিক এক গবেষণাপত্র পেশ করে বলেছেন, তাঁরা সম্ভবত ভূমিকম্পের কিছু পূর্বলক্ষণ শনাক্ত করতে পেরেছেন। এর ভিত্তিতে তাঁরা বলছেন, ২০১৮ সালে ২০টি বড় ভূমিকম্প হলেও তাঁরা অবাক হবেন না
গত ১০০ বছরের বড় বড় ভূমিকম্পের সময় বিশ্লেষণ করে বিলহ্যাম-রেবেকার গবেষণাপত্রে বলা হয়, যেকোনো কারণেই হোক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের বছর পাঁচেক আগে পৃথিবীর ঘূর্ণনগতি যৎসামান্য পরিমাণে হলেও কমে আসে। বিলহ্যাম এ বিষয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিউজউইক সাময়িকীকে বলেছেন, মহাকালের কাছে ১০০ বছর সময়টা চোখের পলকের সমান হতে পারে। এর পরও তাঁরা সাম্প্রতিক শতকের ভূমিকম্পগুলোর প্রবণতাকে ফেলনা মনে করছেন না। তিনি বলেন, পৃথিবীর অস্থির কেন্দ্রভাগ কয়েক দশক পর পর সামান্য পরিমাণে হলেও পৃথিবীর ঘূর্ণনগতিতে প্রভাব ফেলছে। তাদের পাওয়া তথ্য বলছে, এই গতি কমে আসা শুরুর বছর পাঁচেক পরই বড় বড় ভূমিকম্প আঘাত হানছে। ২০১২ সাল থেকে পৃথিবীর ঘোরার গতি কমছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে গোটা বিশেক বড় ভূমিকম্প বিশ্বে আঘাত হানলে হানতেও পারে।
এদিকে আরেকটি বড় দুঃসংবাদ পুনরুচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা। ‘বিশ্বের ২৯২টি শহরের সঙ্গে চট্টগ্রামও তলিয়ে যেতে পারে আগামী ১০০ বছর নাগাদ। সমুদ্রের পানির স্তর যেভাবে বাড়ছে, তাতে চট্টগ্রামকে বাঁচানো হয়তো সম্ভব হবে না। ’ নাসার বিজ্ঞানী সুরেন্দ্র অধিকারী এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছেন, উষ্ণায়নের প্রভাব আগের চেয়েও বেশি অনুমান করা যাচ্ছে তাদের উদ্ভাবিত একটি ‘টুল’ দিয়ে।
বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে—এ তথ্য পুরনো। কোন কোন এলাকা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটি এবার জানা যাবে নাসার গ্র্যাডিয়েন্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাপিং (জিএফএম) টুলের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি জিএফএম উদ্ভাবন করেছে। উষ্ণায়নের জন্য পৃথিবীর সমুদ্রতল কতটা উঠতে পারে ১০ ও ১০০ বছর পর, এর পূর্বাভাস দিতে সক্ষম এই জিএফএম।
নাসার গবেষকরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং যে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৃথিবী ঘুরছে, সেটির সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করবে জিএফএম। সেই তথ্যের ওপর নির্ভর করেই এই টুলটি কাজ করবে। এর পাশাপাশি কোন শহরে হিমবাহ রয়েছে, কখন কী পরিমাণে হিমবাহ গলছে কোন শহরে সেই সংক্রান্ত সব তথ্য দেখা যাবে এই টুলে। যার ফলে আগে থেকেই সেই শহরকে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে পারবে নাসা। সমুদ্রস্তরের ওপরও বিশেষ লক্ষ রাখবে এ টুলটি। সমুদ্রের পানির স্তর ওঠানামা করছে কি না, সেটিও দেখা যাবে এই বিশেষ টুলটির মাধ্যমে।
এরই মধ্যে ওই টুলটি থেকে জানা যাচ্ছে, গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলছে। যার ফলে লন্ডনের সমুদ্রস্তর বাড়তে পারে। এর ফলে লন্ডনে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানাচ্ছে নাসা।
নাসার সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সমুদ্রের পানির স্তর আর এক মিটার বাড়লেই ভারতীয় উপমহাদেশ অঞ্চলের অন্তত ১৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা সমুদ্রের অতলে তলিয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে চীনের অন্যতম ব্যস্ততম বন্দর শহর সাংহাই। তলিয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কও।https://www.facebook.com/banglanews.desk.1





