শিরনাম



খালেদার হাজিরা-আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর

বাংলা নিউজ ডেস্ক:
জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বৃহস্পতিবার বিশেষ আদালতে হাজিরার দিন ধার্য রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার।অন্যদিকে সিপিবি-বাসদ জোট ও আটদলীয় গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ওই দিন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আধাবেলা হরতাল ডেকেছে।ফলে রাজনৈতিক দলের হরতালের কারণে ওইদিন সকালে আদালতে হাজির হবেন না তিনি। তাই আদালতে সময়ের আবেদন দাখিল করবেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করলে তিনি ওইদিন আদালতে হাজির হবেন না।আর যদি সময়ের আবেদন মঞ্জুর না করেন তাহলে বেলা ২টার দিকে আদালতের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন তিনি। দুই মামলায় খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জামিনে রয়েছেন।খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার বলেন, রাজনৈতিক দলের হরতাল থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হতে পারবেন না। তাই আমরা সময়ের আবেদন দাখিল করব।মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

৫ হাজার টাকা জরিমানা-ফুড ভিলেজকে


                 বাংলা নিউজ ডেস্ক:
বগুড়ার ফুড ভিলেজকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। ফিল্টার পানিতে এক ধরনের বিশেষ পোকা থাকার কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী এ জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ রায়।
ফুড ভিলেজ কর্তৃপক্ষ যথাযথ কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে আজ বুধবার এ জরিমানা করা হয়। এর আগে ২২ নভেম্বর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ রায় ফুড ভিলেজ কর্তৃপক্ষকে (ম্যানেজার) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
অভিযোগকারী এস এম জাহিদ হাসান বলেন, গত ১৯ নভেম্বর রাতে পরিবার নিয়ে বুড়িমারি হতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাতে খাবারের বিরতির জন্য বগুড়ার বিখ্যাত ফুড ভিলেজে গাড়ি থামায়।এসময় আমরা তাদের (ফুড ভিলেজের) নিজস্ব ফিল্টারের পানি পান করি।
আমার ছোট ভাই লক্ষ্য করে দেখে ওই ফিল্টার পানিতে এক ধরনের বিশেষ পোকা, যাকে অনেকেই কিরা বলে থাকে। পরে এর প্রতিকার চেয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগ করি।
এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক দেবাশীষ রায় জানান, ফিল্টারের পানিতে এক ধরনের বিশেষ পোকা থাকায় বগুড়ার ফুড ভিলেজকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ টাকার ২৫ শতাংশ দেয়া হয় অভিযোগকারী এস এম জাহিদ হাসানকে। আর বাকি ৭৫ শতাংশ জমা করা হয় সরকারি কোষাগারে।

৫৭ ধারা বিলুপ্ত হচ্ছে: ইনু


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন-২০১৭’ এর খসড়া চূড়ান্ত করতে বুধবার সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করেছি। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আশা করছি আগামী শীতকালীন অধিবেশনে জাতীয় সংসদে এটি উত্থাপন করতে পারব।”
আইসিটি আইনের ৫৭ ধারাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি দাবি করে সেটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন সম্পাদক পরিষদসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।
৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে, এতে যদি কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তা হবে অপরাধ। এর শাস্তি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা জরিমানা।
২০০৬ সালে হওয়া এ আইনটি ২০০৯ ও ২০১৩ সালে দুই দফা সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ সংশোধনে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড করা হয়। আর ৫৭ ধারার অপরাধকে করা হয় জামিনঅযোগ্য।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এর আগে জানিয়েছিলেন, তথ্য-প্রযুক্তি আইন থেকে ৫৭ ধারা বাদ দিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে এ বিষয়ে ‘বিভ্রান্তি’ দূর করা হবে। বুধবার ওই আইনের খসড়া নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার শুরুতে তিনিও উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে যুদ্ধাপরাধীর বিষপান


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
নেদারল্যান্ডসে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জাতিসংঘ ট্রাইবুনালে যে ছয়জন বসনিয়ান ক্রোট সেনা কমান্ডার ও রাজনীতিবীদকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিযুক্ত স্লোবোদান প্রালজ্যাক তাদের একজন।।
মোস্তার শহরে ধ্বংসযজ্ঞের অভিযোগে ২০১৩ সালে প্রালজ্যাকেকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার ওই সাজাই বহাল থাকার রায় ঘোষণার সময় হঠাৎ করেই প্রালজ্যাক উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমি বিষপান করছি।”
যুগোস্লাভিয়ায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে আপিলের চূড়ান্ত শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়েছিল প্রালজ্যাককে।
এ শুনানি শেষেই তিনি তার হাত মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে ছোট একটি গ্লাস থেকে মুখে তরল কিছু ঢেলে দিয়ে চিৎকার করে বলেন,“আমি যুদ্ধাপরাধী নই”।
বিচারক তখন সঙ্গে সঙ্গে প্রালজ্যাকের কাছ থেকে ওই জিনিস সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে শুনানি বন্ধ করেন এবং চিকিৎসককে ডেকে পাঠান।
তবে প্রালজাক সত্যিই বিষপান করেছেন কী-না তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত জানা যায়নি।
বসনিয়ান ক্রোট প্রতিরক্ষা বাহিনী (এইচভিও) সাবেক কমান্ডার প্রালজ্যাককে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য জেল দেওয়া হয়েছিল।
যুগোস্লাভিয়ার গৃহযুদ্ধে ইস্ট মোস্তার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধের পর সেখানে যাওয়া সাংবাদিকরা ওই এলাকাকে ‘হেল অন আর্থ’ (পৃথিবীর জাহান্নাম) বলে বর্ণনা করেছিলেন।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলছে, ১৯৯৩ সালে প্রজোরে সেনাদের হাতে মুসলিমদের আটক হওয়ার খবর শোনার পরও প্রালজ্যাক তা বন্ধে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। লোকজনকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হচ্ছে জেনেও তিনি কোনও পদক্ষেপ নেননি।
প্রালজ্যাকের আগে গত সপ্তাহে বসনিয়ার কসাই খ্যাত রাতকো ম্লাদিচকে দোষী সাব্যস্ত করে যুগোস্লাভিয়া যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ট্রাইব্যুনাল ১৬১ জনকে অভিযুক্ত করেছে এবং ৯০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

জানুয়ারির মধ্যে দেশে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল সেবা ফোর-জি


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
জানুয়ারির মধ্যে দেশে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল সেবা ফোর-জি চালু হবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এর আগে ডিসেম্বরের মধ্যে এই সেবা চালু হবে বলে জানানো হয়েছিল।  

বুধবার বিকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফোর-জি চালুর ক্ষেত্রে অপারেটরদের ২৩টি প্রস্তাবের ২২টি শতভাগ পূরণ করা হয়েছে। এছাড়া বাকি একটি শর্তের আংশিক পূরণ হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন করা সার-সংক্ষেপ আজ আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। আমরা এটি আজকে বিটিআরসিতে (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন) পাঠিয়ে দেব।
তারানা হালিম বলেন, ফোর-জি চালু করার জন্য আমাদের যে কার্যক্রম, সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে থেকে শুরু হয়ে গেছে। জানুয়ারির দিকে এ সেবা দিতে পারব আমরা। এতদিন সভা, মতামত গ্রহণ, গাইডলাইন সংশোধন- এ প্রাথমিক কাজগুলো করেছি। আজকে থেকে দ্বিতীয় ধাপের দিকে অগ্রসর হবো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও নতুন বছরে সরকারের উপহার হিসেবে জনগণকে এ সেবাটা দেব। তবে আমাদের সবসময় টার্গেট থাকবে যত দ্রুত সম্ভব এটা চালু করা। আমাদের কিছু বাধ্যবাধকতা আছে, কনভার্সন ফি জমা দেয়ার ব্যাপার আছে। কত দ্রুত তারা (অপারেটররা) ফি জমা দেন, এগুলো মাথায় রেখে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটা শুরু করতে চাচ্ছি। আশা করছি, নতুন বছরের প্রথমে জানুয়ারিতে জনগণের কাছে সেবাটা পৌঁছে দিতে সমর্থ্য হবো।
মোবাইল ফোন অপারেটরদের দাবির মুখে তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) ‘প্রযুক্তি নিরপেক্ষতায় (টেকনোলজি নিউট্রালিটি)’ রূপান্তরে শর্তসাপেক্ষে খরচে ছাড় দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৮০০ ও ৯০০ মেগাহার্টজের তরঙ্গ টেকনোলজি নিউট্রালিটিতে রূপান্তরে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৮০০ ও ৯০০ মেগাহার্টজের তরঙ্গ যদি একধাপে রূপান্তর করেন তাহলে চার মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আংশিক রূপান্তর করলে ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
তারানা হালিম বলেন, ফোর-জি লাইসেন্স নীতিমালায় ফোর-জি'র প্রাথমিক স্পিড ২০ মেগাবিটস পার সেকেন্ড ((এমবিপিএস) নির্ধারণ করা হয়েছে। বিটিআরসি সময় সময় গতি পরিবর্তন করতে পারবে বলে নীতিমালায় রাখা হয়েছে। আগের নীতিমালায় এই স্পিড ন্যূনতম ১০০ এমপিবিএস রাখা হয়েছিল। রেকর্ড সময়সীমা কমিয়ে এসে দুই বছর করা হয়ে্ছে। যা আগে ১২ বছর ছিল। ভ্যাট ও ট্যাক্সের বিষয়ে বিটিআরসিতে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা না রেখে যথাযথ কর্তৃপক্ষের রাখা হয়েছে।
ফোর-জি লাইসেন্স আবেদন ফি পাঁচ লাখ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, লাইসেন্স অ্যাকুইজিশন ফি ১৫ কোটি থেকে ১০ কোটি, লাইসেন্স নবায়ন ফি সাড়ে সাত কোটি থেকে পাঁচ কোটি, রেভিনিউ শেয়ারিং ১৫ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, ব্যাংক গ্যারান্টি ১৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। অপারেটররা নেটওয়ার্ক উন্নয়নে ফাইবার অপটিক কেবল স্থাপনের বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছিল সেই বিষয়টাও শর্তসাপেক্ষে বিবেচনা করা হয়েছে এবং এর ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান (এনটিটিএন) ফাইবার স্থাপন করে তাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না।

স্বেচ্ছামৃত্যু'র ওষুধ' বৈধতা পেল


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে মৃত্যুবরণের ওষুধ সেবন করার আইনটি রাজ্য পার্লামেন্টে বৈধতা পেয়েছে।   বুধবার সংসদে তুমুল বিতর্কের পর এ সংক্রান্ত আইনটি পাস করে রাজ্য পার্লামেন্ট।
এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক দুরোরোগ্য রোগে ভুগলে তা থেকে মুক্তির জন্য মৃত্যুবরণের ওষুধ সেবন করতে পারবেন ওই রাজ্যের নাগরিকেরা।   অস্ট্রেলিয়ায় এমন আইন পাসের ঘটনা প্রথম।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনগোষ্ঠীর রাজ্যটিতে আগামী ২০১৯ সালের মাঝামাঝি থেকে এই আলোচিত আইন কার্যকর হবে। আইনের আওতায় থাকবেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকেরা। আর ওষুধ সেবন বা সহায়তা নেওয়ার ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মৃত্যুর কোলে গড়িয়ে পড়বেন তারা।
আইনটি পাসের বিষয়ে ভিক্টোরিয়ার প্রধান প্রশাসক বা প্রিমিয়ার ডানিয়েল অ্যান্ড্রুস বলেন, আমি আজ অত্যন্ত গর্বিত যে আমাদের সংসদের কেন্দ্রে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই সমবেদনার অধিকারটি প্রতিষ্ঠিত করেছি। এটা রাজনীতির সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত।
আইনটির বিস্তারিত উল্লেখ করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এই আইনটি তীব্র যন্ত্রণাভোগী রোগীদের জন্য পাস করা হয়েছে। কেউ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে মৃত্যুকেই বরণ করতে চাইলে তাকে অন্তত ৬৮টি ধাপ পেরোতে হবে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মৃত্যুকে বেছে নেওয়া রোগীকে অন্তত তিনটি আবেদন করতে হবে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের কাছে, যেখানে যন্ত্রণার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি তার মৃত্যু কামনা করবেন। রোগের ধরন থেকে শুরু করে রোগীর আবেদন পর্যন্ত পুরো বিষয়টি রিভিউ বা পর্যালোচনা করবে একটি বিশেষ বোর্ড।  
এরমধ্যে যদি আবার কাউকে প্ররোচিত করে বা জোর করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, তবে সেটা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। তাছাড়া রোগীদের সুস্থ মানসিকতার এবং ভিক্টোরিয়া রাজ্যে অন্তত ১২ মাস থাকার রেকর্ড থাকতে হবে। তবে যে রোগীদের মধ্যে স্নায়ুর ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে কমিয়ে ফেলার মতো অ্যামিওট্রফিক ল্যাটারাল স্কলেরোসিস (এএলএস) থাকবে, তাদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিতে ছাড় মিলবে।

অঙ্গ সংগঠন নয় ছাত্রদল শ্রমিকদল


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
ইসিকে বিএনপির চিঠি
ছাত্রদল ও শ্রমিক দল বিএনপির অঙ্গসংগঠন নয় বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছে দলটি। বিএনপির অঙ্গসংগঠন থেকে ২০০৯ সালে এ দুই সংগঠনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তখন থেকেই সংগঠন দুটি নিজস্ব স্বকীয়তায় সহযোগী সংগঠন হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করছে বলেও ইসিকে জানিয়েছে তারা। যদিও ২০১৪ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আর মূল দলের শীর্ষ নেতার অনুমোদনে ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন করাটা নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিতে ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিকদের নিয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন থাকায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সম্প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) মেনে নিবন্ধন শর্ত প্রতিপালন করা হচ্ছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনকে এই প্রতিবেদন দিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২২ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এ-সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছেন। নিবন্ধন শর্ত প্রতিপালন করা হচ্ছে কিনা— তা জানতে চেয়ে ইসির চিঠির জবাবে ইসিকে এ তথ্য জানান তিনি। ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালু করে নির্বাচন কমিশন। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন জানান, নিবন্ধন শর্তে আইনে বলা হয়— ছাত্র ও পেশাজীবীদের নিয়ে কোনো অঙ্গসংগঠন রাখা যাবে না। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ দলগুলো তাতেই রাজি হলো, গঠনতন্ত্রও সংশোধন করল। আইনও হলো, গঠনতন্ত্রও ?ঠিক করল দলগুলো। কিন্তু আবার সহযোগী হিসেবে ছাত্র সংগঠনকে রেখেও দিচ্ছে তারা। ওই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই কাজ করে চলেছে। নির্বাচন কমিশন বিষয়গুলো নিয়ে দলগুলোর কাছে ব্যাখ্যাও চাইতে পারে, বলেন ২০১২ সালে বিদায় নেওয়া এই নির্বাচন কমিশনার। রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘ইতিবাচক’ চর্চার আহ্বান জানিয়ে মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, আইন প্রয়োগ না হলে বিধান থেকে লাভ কী! আমরা অঙ্গ-সহযোগী হিসেবে নিষেধাজ্ঞা করেছি, পরে সংশোধন করে সহযোগী করে রাখা যাচ্ছে। যা-ই থাকুক, শর্ত পালনে দলগুলোকেও সহায়তা করতে হবে।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, আরপিও অনুযায়ী ছাত্র সংগঠনের কমিটি মূল দলের নেতা অনুমোদন করা মানেই তা বিধিলঙ্ঘন। একদিকে বিধি মানার কথা বলবেন, কাগজে-কলমে ঠিক থাকলেও বাস্তবে নির্বাচনী আইনের সাংঘর্ষিক অবস্থানে রয়েছে অধিকাংশ দল। নিবন্ধন শর্ত প্রতিপালনে ইসি এককভাবে অনেক কিছুই পারবে না, দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। ২০০৮ সালে নিবন্ধন চালুর পর গত কমিশন এ নিয়ে কোনো তদারকি রাখেনি। বর্তমান ইসি খোঁজ নিচ্ছে, এটাও একটা অগ্রগতি। যেহেতু নিবন্ধনের প্রথা চালু হয়েছে, সে ক্ষেত্রে বিধিগুলো প্রতিপালনে দলগুলোকেও সময় দিতে হবে ইসির। একটু সময় দিয়ে হলেও বা তাগিদ দিয়ে নিবন্ধন শর্ত পালনে বাধ্য করাতে হবে।
১৫% নারী সবখানে : ইসিকে বিএনপি মহাসচিব জানান, আরপিওর শর্তাদি প্রতিপালন করা হচ্ছে। দলের সব স্তরে ১৫% মহিলা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। ২০০৯ সালের বিএনপির পঞ্চম কাউন্সিলে ছাত্রদল ও শ্রমিক দলকে অঙ্গসংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে কিছু দিন সময় চেয়ে বিএনপি মহাসচিব নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন না দিতে পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

অনিয়ম-দুর্নীতি ও নানাভাবেই ব্যাংক থেকে টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে।

বাংলা নিউজ ডেস্ক:
অনিয়ম-দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাওয়া অর্থ আর ফেরত আসছে না। হলমার্ক ও বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক খাত থেকে নিয়ে গেছে।
এ টাকা আর ফেরত আসেনি। আদৌ আসবে কিনা তা নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনসূত্রে জানা গেছে, নানাভাবেই ব্যাংক থেকে টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ না করার প্রবণতা আছে। পাশাপাশি বিশেষ চক্র পরিকল্পিতভাবে ভুয়া দলিল-দস্তাবেজ ব্যাংকে মর্টগেজ হিসেবে জমা দিয়ে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে যাচ্ছে। এ চক্রটি নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা কল কারখানার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করছে।
ভুয়া এফডিআরের কাগজপত্র জমা দিয়ে প্রতারক চক্রের ঋণ অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে একশ্রেণির অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তা ও পরিচালকের সম্পৃক্ততা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত কয়েক বছরে এভাবে ব্যাংক খাত থেকেই ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার প্রায় ৯০ ভাগই ফিরে না আসার অবস্থায় রয়েছে। বাধ্য হয়ে ব্যাংকগুলো এসব ঋণকে খেলাপি ঘোষণা করছে।
ফলে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার সময় দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। নয় বছর পর সেই খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে খেলাপি ঋণ বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণ। এর বাইরে আরও ৪৫ হাজার কোটি টাকার খারাপ ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। লুকিয়ে রাখা এই বিশাল অঙ্ক খেলাপি ঋণ হিসাবের বাইরে রয়েছে। সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ এখন ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা ব্যাংক খাতের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নিয়মাচার না মেনে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেওয়ার কারণেই টাকা আদায় হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, ঋণ ফেরত না দিলেও কিছু হয় না। আদালতের আদেশ নিয়ে বছরের পর বছর ভালো থাকা যায়। এজন্য ঋণ ফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ থেকে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যাংক খাতকে পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। ’ তার মতে, পুনর্গঠন ও পুনঃ তফসিল একধরনের হিসাব জালিয়াতি। এসব ঋণ আদায় হয় না।
এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা : এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা হচ্ছেন। ঋণ নিয়ে আবার তা দীর্ঘদিন পরিশোধ করছেন না তারা। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের ব্যাংকে এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৩ সালে নিজ ব্যাংক থেকে পরিচালকদের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। ২০১২ সালে ছিল ২ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে নিজ ব্যাংক থেকে পরিচালকরা অস্বাভাবিক হারে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংক খাতে পরিচালকদের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে । এ ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া এক ব্যাংকের পরিচালক হয়ে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পরিচালকদের এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি ঠেকাতে না পারলে ব্যাংক খাতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে পরিচালকদের মেয়াদ নয় বছর করা হচ্ছে। এ প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে ব্যাংক খাত আরও নাজুক অবস্থায় পড়বে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পরিচালকরা পর্ষদ সভায় বাইরের লোক নিয়ে এসে চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগ রয়েছে। পর্ষদ সভায় কেবল পরিচালকরা উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ব্যাংকের শেয়ারধারী ব্যক্তিকে সভায় এনে প্রভাব বিস্তার করা হয়। এমন ঘটনা বেশ কয়েকটি ব্যাংকেই ঘটেছে বলে অভিযোগ আছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েকটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষকও নিয়োগ দিয়েছে। দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ আছে। একই সঙ্গে আরেক ব্যাংকের এক পরিচালককে নিজের ব্যাংক থেকে ঋণ দিতে চাইলে এ নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ সভায় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। চেয়ারম্যান নিজের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে ছেলে ও মেয়েকে পরিচালক করার জন্য পর্ষদকে অনৈতিকভাবে চাপ দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়।
ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালকরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ বা আর্থিক সুবিধা নিতে না পারার কথা থাকলেও তারাও বেনামে ঋণ নিচ্ছেন। এ ধরনের অভিযোগ প্রকাশ হওয়ায় সম্প্রতি একটি ব্যাংকের এমডিকে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকরা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম করেছেন। এ পরিমাণ ঋণ তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য ব্যাংকের পরিচালকদের নামে-বেনামে বিতরণ করেছেন। এতে বলা হয়, দুই পক্ষই নিজ নিজ ব্যাংকে অবৈধ সুবিধা দিচ্ছেন অন্য পরিচালকদের। তৃতীয় প্রজন্মের একটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের পরিচালকরা ঋণ নিয়েছেন ১ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রথম সারির একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের পরিচালকরা নিয়েছেন ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। নানা অনিয়ম-দুর্নীতি জেঁকে বসায় ব্যাংকটিতে সম্প্রতি প্রশাসক বসিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমন অনিয়ম-দুর্নীতির জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে নতুন ব্যাংকগুলোও। এমন একটি ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে ৬০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। আর অন্য এক ব্যাংকের পরিচালক চট্টগ্রামের একটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ওই নতুন ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন; যা খুবই উদ্বেগজনক।
জাল দলিলে অনুমোদন হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঋণ : সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত চার দশকে ভুয়া দলিলপত্র জমা দিয়ে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এর সিংহভাগই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের টাকা। এ ছাড়া প্রায় সব বেসরকারি ব্যাংকেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ব্যাংক ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মাঝে অবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। লেনদেনের সম্পর্কে ধরছে ফাটল। ফলে বিপাকে পড়েছেন প্রকৃত উদ্যোক্তারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব ঘটনার জের ধরে প্রকৃত ঋণগ্রহীতা বা উদ্যোক্তাদের প্রতারক সন্দেহের তালিকায়ও রাখছে ব্যাংকগুলো। এ ধরনের ঘটনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বল মনিটরিংকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা। সূত্র জানায়, এই প্রতারক চক্র কখনো কখনো ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে ঋণ নেয়। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশেও ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ ক্ষেত্রে বন্ধকী সম্পত্তি অতিমূল্যায়িত করে, ভুয়া এলসি খুলে কিংবা জাল সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর বন্ধক রাখার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপি সৃষ্টি হয়েছে। ভুয়া দলিল, ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পর তা পরিশোধ করছেন না গ্রাহক। কারও কারও বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা করলেও তা ঝুলে থাকছে বছরের পর বছর। এর কোনো সমাধান মিলছে না। ফলে ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে পাঁচ বছর পর এসব ঋণ মন্দ ঋণে পরিণত করছে।
সূত্র জানায়, ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে টাকা লোপাটের ঘটনা অনেক ব্যাংক প্রকাশ করে না সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে। সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনায় কয়েকটি ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করেছে। পাশাপাশি যে কোনো ধরনের ঋণ দেওয়ার আগে মর্টগেজের কাগজপত্র অধিক যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে কেওআইসি (তোমার গ্রাহককে জানো) ছাড়া ব্যাংকঋণ দিতে নিরুৎসাহিতও করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, ব্যাংকগুলো সব ধরনের নিয়মকানুন মেনে চললে এবং কেওআইসি অনুসরণ করলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব। এজন্য ব্যাংকারদের স্বচ্ছতা, সচেতনতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে।
ভুয়া এলসিতেও লোপাট হচ্ছে ব্যাংকের টাকা : শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র আমদানির নামে ভুয়া এলসি (ঋণপত্র) খুলে জালিয়াতির মাধ্যমে গত কয়েক বছরে ব্যাংক খাত থেকে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকাই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। মর্টগেজ হিসেবে দেখানো পণ্য বা জমির ভুয়া দলিল দিয়ে এলসি খুলছে এই চক্রটি। মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এলসির কাগজপত্র তৈরি করে অন্য ব্যাংকে তা বিক্রি করে টাকা তুলে নিচ্ছে। এসব ঘটনায় খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি চক্র সুকৌশলে ব্যাক টু ব্যাংক এলসি খুলে নিজেরাই আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক সেজে ব্যাংকের টাকা লুটে নিচ্ছে। এ ছাড়া ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে তা ব্যাংকে মর্টগেজ দিয়ে ঋণের আবেদন করছে। পরে এসব কাগজপত্র জাল হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি তৈরি পোশাক খাত ও জাহাজভাঙা শিল্পের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানির জন্য খোলা বিপুলসংখ্যক ব্যাক টু ব্যাক এলসি ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, সংঘবদ্ধ এই চক্রটি ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করিয়ে তা আত্মসাৎ করছে। এ ধরনের ভয়াবহ জালিয়াত চক্রের সঙ্গে ব্যাংকের অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় বেশি ঘটছে। তবে বেসরকারি খাতের অন্তত অর্ধেকসংখ্যক ব্যাংকেও এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনার নজির রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুলে সম্প্রতি দেশের একটি নামিদামি কোম্পানি অপরিশোধিত চিনি আমদানির মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। ইতিমধ্যে ওই কোম্পানির টাকা আরেক বেসরকারি ব্যাংকে বিল হিসেবে পরিশোধ করে দিয়েছে জনতা ব্যাংক। পরে দেখা গেছে, তারা কোনো চিনিই আমদানি করেনি। এমনকি মর্টগেজ হিসেবে দেখানো কোম্পানির ভিন্ন পণ্যেরও কোনো অস্তিত্ব নেই।
হুহু করে বাড়ছে খেলাপি ঋণ : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষে ব্যাংক খাতে ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি। অর্থাৎ ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঋণই এখন খেলাপি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর— এ তিন মাসেই সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। গত জুনে ছিল ৩৪ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণই বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের ব্যাপারে আগেও অনেক অভিযোগ আসত। বর্তমানে হয়তো তা আরও বেড়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ’ তিনি বলেন, ‘যেসব ব্যাংকের পর্ষদ বা পরিচালকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাহলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের অর্থনীতিই ঝুঁকির মধ্যে চলে যাবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও অনেক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।

জঙ্গি আস্তানায় তিন জেএমবি’র ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধার ॥ দম্পতিসহ আটক ৩


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর আলাতুলি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া দুর্গম পদ্মার চরের জঙ্গি আস্তানা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা সবাই জেএমবির সক্রিয় সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাবের একটি দল বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া ছিন্নভিন্ন তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। 
এবিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান মুফতি মাহমুদ জানান, এখান থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তল, তিনটি গ্রেনেড, সাতটি ডেটেনেটর, ১২টি পাওয়ার জেল ও বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত তিনজনের পরিচয় পাওয়া না গেলেও তারা জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে জঙ্গি সন্দেহে দম্পতিসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে র‌্যাবের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আটককৃতরা হলো, ওই বাথানবাড়ির মালিক রাশিকুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগম, নাজমার মা মিনারা ও বাবা খোরশেদ আলম। বাড়ির মালিক রাশিকুল ইসলাম আলাতুলি নতুনপাড়ার আতাউর রহমান ওরফে কালুর ছেলে। এই বাথান বাড়িতেই তার শ্বশুর ও শাশুড়িও থাকতেন। চর আলাতুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ জানান, বাথান বাড়িতে রাশিকুল, তার স্ত্রী, ১৫ বছর বয়সী এক ছেলে এবং তার শ্বশুর থাকতেন। তবে মালিক রাশিকুল ইসলাম ক্যান্সারে আক্রান্ত। বছর চারেক আগে গরু-ছাগল পালনের সুবিধার জন্য তিনি ওই বাথানবাড়িটি বানিয়েছিলেন। তবে নির্জন এলাকা হওয়ায় বাড়িটিতে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর ব্যাপারে তারা কিছু টের পাননি। এর আগে মঙ্গলবার ভোররাতে পদ্মার ওপারে চরআলাতুলি ইউনিয়নের মধ্যচর এলাকার ওই বাথানবাড়িতে ওই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় র‌্যাব। এরপর সেখানে র‌্যাব সদস্যরা অভিযানে গেলে গোলাগুলীর ঘটনাও ঘটে। পরে বিস্ফোরণে বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে বাড়িটি ঘিরে অভিযান চালায় র‌্যাব সদস্যরা। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় র‌্যাবের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দল। এরপর সেখানে অভিযান শুরু করে দলটি। র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান মুফতি মাহমুদ সংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত থেকেই ঘিরে রাখা হয় বাড়িটি। এরপর ভোররাতে সেখানে অবস্থানকারীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু সাড়া না দিয়ে বাড়ির ভেতরে দুই দফা বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম জানান, ভোররাতে বাড়িটিতে অভিযানের শুরুতেই সেখান থেকে গুলী ও গ্রেনেড ছুঁড়ে দুর্বৃত্তরা। পরে বিস্ফোরণ ঘটালে বাড়িটির একটি অংশে আগুন ধরে যায়। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ হেলিকপ্টারযোগে পৌঁছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

হিজবুল্লাহ মহাসচিবকে হত্যা করা হবে: ইসরাইল


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
 ইহুদিবাদী ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বলেছে, ভবিষ্যত যুদ্ধে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করা হবে।
গতকাল ইসরাইলের এইলাত শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রোনেন ম্যানেলিস একথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “ভবিষ্যত যুদ্ধে বিজয়ের কোনো পরিষ্কার চিত্র নেই তবে হিজবুল্লাহ মহাসচিব হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যার টার্গেট হবে মূল বিষয়।” 
ইহুদিবাদী এ সেনা মুখপাত্র তার ভাষায় বলেন, "হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যু হিজবুল্লাহর সামরিক অভিযানের ওপর প্রভাব ফেলবে।"
২০০০ ও ২০০৬ সালে ইসরাইলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর দুটি যুদ্ধ হয়েছে এবং দুটি যুদ্ধেই হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলের ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া, সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ তার সাম্প্রতিক প্রতিটি ভাষণে বলেছেন,  যদি ভবিষ্যতে লেবাননের ওপর আর কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানোর মতো বোকামি করে ইসরাইল তাহলে তার দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে। গত মাসে তিনি এক ভাষণে বলেন, ইসরাইল জানে না ভবিষ্যত যুদ্ধে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে।-পার্স টুডে

গণ-অভ্যুত্থান এখন জাদুঘরে : ওবায়দুল কাদের


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
শেখ হাসিনার উন্নয়ন জোয়ারে গণ-অভ্যুত্থান এখন জাদুঘরে অবস্থান করছে। আর এটির স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নের নামান্তর বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পাশাপাশি তিনি (ওবায়দুল কাদের) বলেন, বর্তমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের শিকড় বাংলাদেশের মাটির অনেক গভীরে রয়েছে। তাই ধাক্কা দিয়ে এই বটবৃক্ষের পতন ঘটানো যাবে না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটানো হবে—বিএনপির নেতাদের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব, ধাক্কা দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফেলা যাবে না। আওয়ামী লীগ বিএনপি না।…মেয়র হানিফের জনতার মঞ্চের এক ধাক্কায় বিএনপি সরকারের পতন হয়েছিল। মনে আছে? আওয়ামী লীগ সেই দল।’
গণ-অভ্যুত্থান শব্দটি এখন জাদুঘরে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন,শেখ হাসিনা উন্নয়ন-অর্জন দিয়ে গণ-অভ্যুত্থান শব্দটিকে জাদুঘরে দিয়ে দিয়েছেন। দেশের জনগন শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নে এত খুশি যে আপনারা সাড়ে আট বছর বারবার আন্দোলনের ডাক দিয়েও জনগণের সাড়া পাননি।’
এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তো জিতেই গেছে—এমন মানসিকতা ছিল। তখন নানা ষড়যন্ত্র ছিল। তবে জেতার আগেই জিতে গেছি, এই মানসিকতার পুনরাবৃত্তি যেন আগামী নির্বাচনে না হয়।’
এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিপিএল-এ ৭ বলে ওভার


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
মঙ্গলবার দিনের প্রথম ম্যাচে টানটান উত্তেজনা শেষে সিলেট সিক্সার্সকে ৪ উইকেটে পরাজিত করে রংপুর রাইডার্স। ১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শেষদিকের নাটকীয়তা শেষে ২ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মাশরাফির দল। তবে ম্যাচটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রংপুরের ইনিংসে এক ওভারে ৭টি বল করতে হয় সিলেটের বোলারকে। এটি নিয়ে ফুঁসছেন সিলেটের সমর্থকরা।
জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে ৫৩ রান দরকার ছিল রংপুর রাইডার্সের। ইনিংসের ১৬তম ওভার করতে এগিয়ে আসেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। সেই ওভারেই আম্পায়ার সাত বল করতে বাধ্য করেন রাব্বিকে। পরে সেটি নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।ম্যাচ চলাকালীন সিলেটের পক্ষ থেকে বিষয়টি অনফিল্ড আম্পায়ারকে জানানো হয়। এই ঘটনায় ম্যাচ রেফারির কাছে লিখিত অভিযোগ করা হবে বলে জানিয়েছে সিলেট সিক্সার্স।
ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর চলতি ধারাভাষ্যেও বিষয়টি ধরা পড়ে। ক্রিকইনফোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাব্বির করা ১৬তম ওভারের প্রথম বলে চার হাঁকানোর পর দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল নেন রবি বোপারা। তৃতীয় বলে সামিউল্লাহ সেনওয়ারি রানআউটের ফাঁদে পড়েন।
এরপর চতুর্থ ও পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নেন বোপারা ও মাশরাফি। ষষ্ঠ বলে বোপারা দুই রান নিলে তখনই ওভার শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে আম্পায়ার রাব্বিকে দিয়ে আরেকটি বল করান। সেই অতিরিক্ত বলটি থেকে এক রান নেন বোপারা।
সিলেট-রংপুর ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন র‌্যানমোর মার্টিনেজ ও মাহফুজুর রহমান। টিভি আম্পায়ার ছিলেন গাজী সোহেল। অন্যদিকে ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন নেয়ামুর রহমান।

নাগেশ্বরীতে বাউল কুল চাষ করে অর্ধকোটি টাকার মালিক তাইজুল


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
মোঃ মসলেম উদ্দিন নাগেশ্বরী : 
ইনোভেশনে যুব প্রশিক্ষণের সাফজল্যে নাগেশ্বরীতে ১৮শ টাকায় বাউল কুলের চাষ শুরু করে অর্ধকোটি টাকার মালিক হয়েছে তাইজুল ইসলাম নামের এক যুবক। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার কুটি পশ্চিম পয়রাডাঙ্গা এলাকার দেলদার হোসেনের ছেলে সে। একজন বেকার যুবক। পারিবারিক অবস্থা ভাল ছিল না তেমন। বাবার সামান্য স¤পদে টানাপরেনের মধ্যে চলতো সংসার। লেখাপড়ায়ও কাচা। পরিবারের এবং প্রতিবেশীদের অভাব খুব কাছ থেকে অনুভব করেছে সে। আর এ অভাবই কিছু একটা করার তাড়া করে তাকে। স্বপ্ন দেখে অনেক বড় হওয়ার। তাউজুল জনায়, প্রায় ৫০ জনের সাথে থেকে মাছ চাষ করা থেকে শুরু হয় তার পথ চলা। সেখান থেকে মাত্র ১৮শ টাকা পায়। টাকা হাতে পেয়ে আনন্দের ঝিলিক আসে চোখে মুখে। তার চিন্তা এ টাকা বাজে কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না। কিছু একটা করতেই হবে। যেই ভাবা সেই কাজ।  এই সামান্য টাকায় বাবার এক একর জমির চারপাশে বাঁধ দিয়ে শুরু করে মাছ চাষ। তখন ২০০৫ সাল।  সেই চাষ করা মাছ বাজারে বিক্রি করে ১৩ হাজার টাকা আয় হয় তার। স্বপ্ন আরো প্রসাড়িত হতে থাকে। আয়ের টাকা দিয়ে ২০ শতক জমিতে চাষ শুরু করে বাউকুলের । এতেও বেশ লাভবান হয়। লাভের স্বাধ তার কাজে উৎসাহ জোগায়। পরের বছর আরো ২ একর জমিতে বাউকুল চাষ করে। তাইজুল আরও জানায়, বাউলকুল চাষ করে সেখান থেকে দ্বিগুন লাভ হয় তার । লাভের টাকায় শুরু করে আর এক ব্যবসা। বাজার থেকে দুটি গরু কিনে কিছুদিন পর সে গরুও বিক্রি করে দেয়। এতেও লাভ গুনে সে। তখন বিদেশি আরো ৬টা গরু কেনে। সেই গরু থেকে প্রতি বছর বাছুর গরু পায়।  সেখান থেকে কিছু গরু বাজারে বিক্রি করে দেয়। এভাবেই টাকার অঙ্কটা ভাড়ি হতে থাকে তাইজুলের। এদিকে বাউকুল চাষেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করতে থাকে। এরই মধ্যে খবর পেয়ে তাইজুলের বাউলকুলের বাগান পরিদর্শন করেতে যান উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মনজুর আলম। এরপর বাউলকুলসহ হাতে নেয়া অন্যান্য প্রজেক্টগুলোও পরিদর্শন করেন তিনি। সেগুলোও পরিদর্শন করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসকসহ আরও অনেক কর্মকর্তা। এসব প্রকল্প দেখে খুশি হয় পরিদর্শকগণ। পরে সবার পরামর্শ ও সহযোগিতায় ২০১৪ সালে প্রশিকক্ষণ নেয় মাছ চাষের। প্রশিক্ষণ নিয়েই বড় একটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করে সে। ক্রমেই লাভের পাল্লা ভাড়ি হতে থাকে এই সফল যুবকের। প্রকল্পটি আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই মাথায় ছিল। সব সময়েই শুধু বড় কিছু করার কথা মাথায় কাজ করে তাইজুলের। কিন্তু অনেক অর্থ ইনভেস্ট করতে হবে। কী করবে ভেবে পায় না কিছুই। পরে অবসান হয় সে দুশ্চিন্তারও। যুব উন্নয়ন অফিসারের সহযোগিতায় কৃষি ব্যাংক থেকে ৫লাখ এবং এবং কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় ১লাখ টাকা। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের শুরুর দিকে প্রকল্প পরিদর্শনে আসেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের জেলা কর্মকর্তা। তিনি এ প্রকল্প দেখে একটি বেসরকারী ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ১০ লাখ টাকা ঋণ সংগ্রহ করে দিলে ব্যবসায় সবুজ সংকেত পায় সে। ধীরে ধীরে সব লোন পরিশোধ করে। বাড়তি টাকা দিয়ে আবারও একটি ব্রয়লার সেড তৈরী করে এবং ব্রয়লার মুরগীর ব্যাবসা শুরু করে। লাভবান হয় এতেও। ২০১৬সালে বাউকুল বিক্রির পরে তাইজুলের হাতে যা টাকা আসে তা দিয়ে আরো একটি মুরগী খামার দেয়। যেখানে ৯ হাজার লেয়ার মুরগীর বাচ্চা পালন করে। যেখানে তার সাথে কাজ করতো আরও ১৫-২০জন লোক। শুধু এ দিয়েই শেষ নয়। তবে এবারের চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যার শিকার হয় সে। ব্রয়লারের খামারের প্রায় ৫ হাজার মুরগি মারা গেলে  ব্যাপক লোকসান গুনতে হয় তাকে। তবুও থেমে থাকেনি তার পথচলা। ভেঙ্গে না পড়ে আরো ২ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেও লাভবান হয়। চলতে থাকে সব প্রকল্পের কাজ। এভাবেই একটার পর একটা ব্যবসা চালিয়ে যায় বহু কষ্টে। এছাড়াও এরকম করে আবার ১ একর জমিতে কলা বাগান লাগায়। এখন ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে এক ধরনের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। ধীরে ধীরে উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌছতে থাকে সে। এভাবেই ১৮শ টাকা থেকে এখন অর্ধ কোটি টাকার মালিক হয়েছে তাইজুল। এ বিষয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মনজুর আলম বলেন, আমরা তাইজুলকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করায় সে এগিয়ে যেতে পরেছে। এভাবে আমরা অন্যদেরকেও সহযোগিতা দিচ্ছি। আশা করছি অচিরেই আরো অনেকে তাইজুলের  মতো সাফল্য পাবেন।

পুলিশের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় আসামীর ছেলে ও ভাতিজা আটক


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
মোঃ মসলেম উদ্দিন: পুলিশের কাছে ঘুষের টাকা ফেরৎ চাওয়ায় আসামীর ছেলে ও ভাতিজাকে আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরদিন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ২দিন পর মঙ্গলবার সে টাকা ফেরৎ দিয়েছেন ওই এস.আই। জানা যায়, মাদক মামলার আসামী নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের বাহেরকেদার সাহেবের খান গ্রামের রুহুল আমিন বাবুর নাম চার্জশীট থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আবু সিদ্দিকের মধ্যস্থায় ১০হাজার টাকা ঘুষ নেয় কচাকাটা থানার এস.আই শফিকুল ইসলাম। পরবর্তীতে চার্জশীর্ট থেকে তার নাম বাদ না দেওয়ায় টাকা ফেরৎ চায় বাবু। এতে গড়িমসি করলে গত রবিবার মাদারগঞ্জ গাবতলা বাজারে গ্রাম পুলিশ আবু সিদ্দিক ও বাবুর স্বজনরা আবারো টাকা ফেরৎ চাইলে এসআই শফিকুল রেগে যান। এরই জের ধরে ওইদিন রাতে বাবুর বাড়ীতে সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালায় এসআই শফিকুল ইসলাম। পরে বাবুকে না পেয়ে তার ছেলে কচাকাটা ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্র হাবিবুর রহমান ও তার ভাই শাহাজালালের ছেলে একই কলেজের এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র দুলাল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। 
পরিবারের লোকজন এতে বাঁধা দিলে পুলিশের মারপিটে আহত হয় বাবুর স্ত্রী হাসিনা (৩০), শাহাজালালের মেয়ে শাহাজাদী (১৮), আজাহারের স্ত্রী রহিমা (৭০), হাসান আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২৭)। বিষয়টি জানতে পেয়ে কেদার ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোমবার সকাল ৯টায় থানায় গিয়ে আটককৃতদের ছাড়িয়ে আনেন। এনিয়ে জল ঘোলা হলে অত:পর ঘটনার ২দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে ওই গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ঘুষের ১০ হাজার টাকা ফেরৎ দেন এস.আই শফিকুল ইসলাম।
কেদার ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, বাবুর নামে ওয়ারেন্ট ছিল। রাতে বাড়িতে গিয়ে তাকে পায়নি। পরে পুলিশের সাথে পরিবারের লোকজনের ধস্তাধস্তি হয়। রাগে পুলিশ তার ছেলে ও ভাতিজাকে তুলে নিয়ে যায়। সোমবার সকালে ওসির সাথে কথা বলে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়। ঘুষের টাকার বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না বলে জানান।
গ্রাম পুলিশ আবু সিদ্দিক বলেন ঘুষের ওই টাকা নেয়ার একাধিক ফোন রেকর্ড আমার সংগ্রহে রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আমার মাধ্যমে সে টাকা ফেরৎ পাঠিয়েছেন ওই এস.আই।
এ বিষয়ে এস.আই শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে বলেন টাকা আমি নেইনি। যদি কেউ নিয়ে থাকে তারা ফেরৎ দিলে দিয়েছে। আমি কিছু জানিনা। তবে ইতোপুর্বে বাবু চার্জশীট থেকে তার নাম বাদ দেয়ার জন্য অনেকবার আমাকে অনুরোধ করে। আমি সে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।  
কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক খলিল মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী বাবুর সন্ধান জানতে তার ছেলে ও ভাতিজাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। সকালে চেয়ারম্যান বলার পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ঘুষের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি এ থানায় যেগদান করার আগের ঘটনা এটি। এ সব বিষয়ে আমার জানার কথা নয়। 
সরেজমিনে গেলে জানা যায়, কচাকাটা থানার এস.আই শফিকুল ইসলাম গত ২৪ আগষ্ট বাহের কেদার মৌজার সাহেবের খাষ এলাকার নুর ইসলামের ছেলে আলম মিয়াকে দুই বোতল ভারতীয় মদসহ আটক করে। ২৫ আগষ্ট মামলা দায়ের করলে পার্শ্ববর্তী গ্রামের আমিনুল ইসলাম বাবুকেও ওই মামলার আসামী করা হয়।

শাজাহানপুরে আওয়ামীলীগ নেতার মোটর সাইকেল চুরি


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
মাসুম হোসেন : আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার দুবলাগাড়ি হাট থেকে চুপিনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মন্ডলের বাজাজ ডিসকোভার(বগুড়া হ ১৪-৬৪৯১) মোটর সাইকেলটি চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় আব্দুর রশিদ মন্ডল বাদী হয়ে  থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত শাজাহানপুরে ৫দিনে ৪টি মোটর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটলো।
আব্দুর রশিদ মন্ডল জানান,  গতকাল দুবলাগাড়ি হাটে মোটর সাইকেল রেখে বাজার করছিলেন। এসময় তার মোটর সাইকেলটি চুরি হয়। তিনি আরও জানান, থানা পুলিশ ইচ্ছে করলে চোরকে আটক করে চুরি হওয়া মোটর সাইকেল উদ্ধার করতে পারে।
শাজাহানপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক(সার্বিক) জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান,  চুরি হওয়া মোটর সাইকেল  গুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।


মানুষ কেন কাঁদে?


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
মানুষ কী কেবল দুঃখ পেলেই কাঁদে?
কান্নার রয়েছে নানা কারণ। বিশ্বাস হচ্ছে না! তাহলে চলো জানি সেগুলো কী ও কেমন!

তিন ধরণের কান্না বা চোখের পানি রয়েছে।

১. বেসাল কান্না

২. রিফ্লেক্স কান্না ও

৩. আবেগের কান্না

বেসাল কান্না

এ ধরণের কান্না কাঁদতে হয় না, সব সময় আমাদের চোখের ভেতরেই থাকে। এটা এমন এক ধরণের পিচ্ছিল তরল যা আমাদের চোখকে সব সময় ভেজা রাখে। এর কারণেই আমাদের চোখ কখনো একেবারে শুকিয়ে যায় না।

এক গবেষণায় জানা যায়, আমাদের চোখ প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ আউন্স বেসাল কান্না তৈরি করে।

রিফ্লেক্স কান্না

কখনো তোমার মা’কে পেঁয়াজ কাটতে দেখেছো কিংবা নিজে কখনও পেঁয়াজ কেটেছো? চোখ দিয়ে কেমন গরগর করে পানি চলে আসে, তাই না!

রিফ্লেক্স কান্না হলো এমন। এর কাজ হলো আকস্মিক কোন আঘাত, চুলকানি, যন্ত্রণা বা সংবেদনশীল কোন বস্তু থেকে চোখকে রক্ষা করা। এ কান্না কাঁদতে হয় না, প্রয়োজনের সময় নিজ থেকেই টপটপ করে পড়তে শুরু করে।

ধুলো, প্রচণ্ড বাতাস বা ধোঁয়ার কারণে রিফ্লেক্স কান্না আসে। কর্নিয়ার সংবেদী স্নায়ুর মাধ্যমে এ কাজটি চোখ নিজে থেকেই সেরে নিতে পারে।

বিপদ বা আঘাতের সময় এ সংবেদী স্নায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং মস্তিষ্কে সংবাদ পাঠায়। মস্তিষ্ক সংবাদ পেয়ে চোখের পাতায় দ্রুত বিশেষ হরমোন পাঠায়। আর তাতেই রিফ্লেক্স কান্না তৈরি হয়।

আবেগের কান্না

এ কান্না শুরু হয় সেরেব্রাম থেকে। সেরেব্রাম হলো মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ, এজন্য সেরেব্রামকে বলা হয় ‘গুরুমস্তিষ্ক’। সেরেব্রামেই থাকে আমাদের সব ধারণা, কল্পনা, চিন্তা-ভাবনা, মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত।

অন্তঃক্ষরা তন্ত্র আমাদের চোখে হরমোন পাঠায়। এটিই জল হয়ে চোখের ভেতরে থাকে। যখনই আমরা কান্না, বেদনা, আঘাত বা শোকে থাকি তখন এ জল কান্না হয়ে চোখ দিয়ে পড়তে শুরু করে।

কান্না নিয়ে চারটি মজার তথ্য

১. এক গবেষণায় দেখা গেছে একজন নারী প্রতিমাসে ৫.৩ বার কাঁদে, একজন পুরুষ কাঁদে ১.৪ বার।

২. আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে একটা শিশু প্রতিদিন ১ থেকে ৪ ঘণ্টা কাঁদে।

৩. যদি কান্নার প্রতিমাণ বেড়ে যায় তাহলে নাক দিয়েও কান্না বের হয়ে আসতে পারে। এতে করে সাময়িকভাবে নাক বন্ধ হয়ে যায়।

৪. পেঁয়াজ কাটলে আমরা কাঁদি কেনো! কারণ, পেঁয়াজ কাটলে এর ভেতর থেকে প্রোপেন ইথিয়ল সালফার অক্সাইড গ্যাস বের হয়ে আসে। এটি বাতাসে ভেসে আমাদের চোখের সংস্পর্শে চলে আসে, ফলে আমাদের চোখ থেকে জল পড়ে।

বিএসএফের গুলিতে দিনাজপুরের যুবক নিহত


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
দিনাজপুর-২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন‌্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তের ৩১৩ সিএস পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোজাফফর হোসেন (৩৫) সদর উপজেলার ১০ নম্বর কমলপুর ইউনিয়নের আটইর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।
বিজিবি কর্মকর্তা সাইফুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এক দল চোরাকারবারী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেখানে টহলরত বিএসএফের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে।
“এতে ঘটনাস্থলেই মোজাফফরের মৃত্যু হয়।”
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মৃত্যুদণ্ড কেন জরুরি, ব্যাখ্যা দিল হাই কোর্ট


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির রায়ে সোমবার আরও ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে হাই কোর্ট; ২২৮ জনকে দেওয়া হয়েছে তিন থেকে দশ বছরের সাজা।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় মামলা। দুদিন ধরে রায় ঘোষণার বিষয়টিকেও ‘বিরল ঘটনা’ হিসেবে দেখছেন আইনজীবীরা। 
হাই কোর্টের বৃহত্তর এই বেঞ্চ রায় পড়া শুরু করে রোববার সকালে।  বেঞ্চের তিন সদস্য বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ২০০৯ সালে সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে বিদ্রোহের সেই ঘটনা এবং মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরেন দুদিন ধরে। রায়ের মূল আদেশের অংশ (সাজা ঘোষণা) পড়া হয় সোমবার বিকালে।
বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক নজরুল ইসলাম তালুকদার তার পর্যবেক্ষণে হত্যা, ধর্ষণ, গুপ্তচরবৃত্তি, বিশ্বাসঘাতকতা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের অনেক দেশ সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন না করলেও বেসামরিকদের অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে তা বড় ভূমিকা রাখে।
“নিষ্ঠুরতম শাস্তি বিবেচনায় কিছু উন্নত দেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশ তাদের বিচারিক ব্যবস্থা থেকে সর্বোচ্চ শাস্তিকে বাদ দিয়েছে। সেসব দেশের অভিমত হল, সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ে না এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। কিছু মানবাধিকার কর্মী মনে করেন, মৃত্যুদণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।
“কিন্তু এখনও অনেক উন্নত দেশসহ কিছু দেশ, যেমন- যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া হত্যা, গুপ্তচরবৃত্তি, বিশ্বাসঘাতকতা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে প্রাণদণ্ডের বিধান রেখেছে।”
পর্যবেক্ষণে হাই কোর্ট বলেছে, দেশ ও দেশের বাইরে অপরাধীরা যেসব অপরাধ করছে- তা উদ্বেগজনক ও ভয়ানক। এ কারণে দেশ ও দেশের বাইরে মৃত্যুদণ্ড যথাযথ শাস্তি হিসেবে প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিকদের আইন মেনে চলা এবং বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট নাগরিকদের সতর্ক করে। এই শাস্তি আরও বার্তা দেয় যে, যদি কোনো ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।”
কেউ যদি অনৈতিকভাবে কাউকে হত্যা করে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না বলে অভিমত তুলে ধরেন বিচারপতি নজরুল। 
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি পর্যক্ষেণে বলেন, “এ ঘটনায় হত্যাকারী জীবন কেড়ে নিয়েছে অনৈতিকভাবে। এ মামলায় হত্যা ও ধর্ষণের মত মারাত্মক অপরাধ রয়েছে, যে কারণে সর্বোচ্চ শস্তি তাদের প্রাপ্য।”
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ওই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের প্রাণ যায়। সেই ঘটনা পুরো বিশ্বে আলোড়ন তোলে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, যেসব দেশ মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে, সেখানে অপরাধ প্রতিরোধে প্রাণদণ্ডের বিধান একটি ‘প্রয়োজনীয় অংশ’।
“এটা খুব স্বাভাবিক যে, একজন হত্যাকারীর প্রাণদণ্ড দিলে ন্যায়বিচার হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে বার্তা যাবে যে, এ জাতীয় অপরাধ করলে এর প্রতিফল হিসেবে সর্বোচ্চ শস্তি ভোগ করতে হবে।
“আর যিনি বা যারা আইনকে মান্য করেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল তাদের এবং প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপত্তা দেওয়া। তাই সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে হত্যাকারীদের হাত থেকে সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আট বছর আগে সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে সংঘটিত বিদ্রোহের পেছনে ছিল ‘স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র।’
জজ আদালতের মত হাই কোর্টও বলেছে, ন্যায্যমূল্যে পণ্যবিক্রির মত কাজে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জড়ানো ঠিক হয়নি।
সেই সঙ্গে কর্মকর্তা ও সৈনিকদের মধ্যে পেশাদারিত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা, অধস্তনদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক মানসিকতার পরিবর্তন এবং তাদের কোনো ক্ষোভ থাকলে তার প্রশমনের তাগিদ এসেছে হাই কোর্টের রায়ে।

বিদ্রোহের আগে গোয়েন্দারা কেন তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছিল- তাও তদন্ত করে দেখার সুপারিশ করেছে হাই কোর্ট।

আ.লীগ নেতারা বাংলাদেশে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করছে : ইন্ডিয়া টুডে


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সম্পত্তি দখল করেছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তের বরাত দিয়ে শনিবার এ খবর দিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
সংবাদমাধ্যমটির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা।
ভারতের ইন্ডিয়া টুডের অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাদা দাশগুপ্ত সংগঠনের পরিষদের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন পিরোজপুরে। জেলার রাজারহাটে রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে অনুষ্ঠিত হয় এই সম্মেলন।
এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রানা দাশগুপ্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, আইনজীবী চন্ডিচরণ পাল।
এতে রানা দাশগুপ্ত বলেন, বিভিন্ন এমপি ও মন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশের হিন্দুদের সম্পদ দখলের সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
তিনি আরো বলেন, এই অবস্থার থেকে মুক্তি পেতে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চাই।
তার ভাষায়, আমরা ১৯৫৪ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগ দেখতে চাই না। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ দেখতে চাই। রাষ্ট্রের নাকের ডগায় ১৯৯১ সাল থেকে হিন্দুদের বিরুদ্ধে নিষ্পেষণ চলছে। সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের কেউই এসব ঘটনায় বিচারের আলো দেখতে পাননি।
হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষায় বিচারপতি শাহাবুদ্দিন কমিশনের সুপারিশের বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রানা রানা দাশগুপ্ত বলেন, রংপুর জেলার ঠাকুরপাড়ার ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করে ১০ নভেম্বরে পোস্ট দিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবক। এতে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের হিন্দুদের কমপক্ষে ৩০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, শুধু রংপুরেই নয়, আওয়ামী লীগের নেতারা কক্সবাজারে বৌদ্ধমন্দিরে হামলার সঙ্গেও যুক্ত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু এলাকায় হামলার জন্যও তারা দায়ী। হামলাকারীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী বললেও তারা তাদের হৃদয়ে তা ধারণ করে না। তাই যেসব নেতা সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করেন, তাদের ভূমি কেড়ে নেন তাদেরকে আর ভোট দেবে না হিন্দুরা। কারণ, আমরা নির্যাতিত হই, কোনো রাজননৈতিক নেতা বা পুলিশকে আমাদের পাশে পাই না।

আপনার ভাগ্যে সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে ছেঁড়া টাকা! ।


বাংলা নিউজ ডেস্ক:
বাস্তুবিদ্যা ফেং শুই মানুষের ভাগ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নতির ব্যাপারে নানাবিধ পরামর্শ দিয়ে থাকে। একজন মানুষের ভাল থাকা অনেকটাই নির্ভর করে তার আর্থিক অবস্থার উপর। কীভাবে আর্থিক অবস্থার উন্নতি সাধন করা সম্ভব, এবং কীভাবেই বা এড়ানো যেতে পারে আর্থিক দুর্ভাগ্য, সেই বিষয়েও ফেং শুই সুস্পষ্ট নির্দেশ দেয়। কী সেই সমস্ত নির্দেশ? আসুন, জেনে নেওয়া যাক—

১. ফেং শুই মনে করে, টাকাই টাকাকে আকর্ষণ করে। ফলে যে মানুষ টাকা-পয়সার প্রতি যত্নবান নন, তার আর্থিক ভাগ্যও ভাল হয় না। ফেং শুই-এর প্রথম পরামর্শ, টাকা-পয়সা দেওয়া বা গ্রহণের সময় নোট বা কয়েনের প্রতি যত্নবান হোন।

২. টাকা ব্যবহারের সময় তা ছিঁড়ে যাওয়া, কিংবা হাত থেকে টাকা কিংবা কয়েন মাটিতে পড়ে যাওয়াকে অশুভ বলে মনে করে ফেং শুই। এমনটা কারো ক্ষেত্রে হলে, তাঁকে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে— এমনটাই বিশ্বাস ফেং শুই-এর।

৩. কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময়ও সতর্ক থাকতে হবে আপনাকে। দেখে নিতে হবে, যে টাকাগুলি নিচ্ছেন, সেগুলো সব ঠিকঠাক রয়েছে কি না। ময়লা বা ছেঁড়াখোঁড়া নোট যদি আপনার মানিব্যাগ বা পার্সে থাকে, তাহলে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রেও আসবে বাধা।

৪. অনেক সময়েই রং লাগা হাতে আমরা টাকা ধরে ফেলি। এর ফলে রং লেগে যায় টাকাতেও। ফেং শুই মতে, এটা অত্যন্ত খারাপ অভ্যেস। টাকায় রং লেগে গেলে চেষ্টা করুন, সেই টাকা দ্রুত অন্য কারো হাতে তুলে দিতে। নইলে আপনার আর্থিক ক্ষতি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫. মানিব্যাগ এবং পার্সের অবস্থার উপরেও নির্ভর করে আপনার আর্থিক ভাগ্য। যদি ছেঁড়াখোঁড়া বা রং ওঠা পার্স ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার বড় রকমের অর্থ অপচয় হয়ে যেতে পারে।


৬. ফেং শুই মতে, সোনার জলে রং করা রুপোর কয়েন নিজের পার্সে রেখে দেওয়া অত্যন্ত শুভ। এমনটা করা হলে, অর্থ আকৃষ্ট হয়, এবং আপনার আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়।